
পাবনার চাটমোহর-হান্ডিয়াল-হামকুড়িয়া আঞ্চলিক সড়কটি সংস্কার কাজ ফেলে লাপাত্তা হয়েছে ঠিকাদার। আট মাসে রাস্তাটি সংস্কার করার কথা থাকলেও মাত্র দুই মাসে কিছু কাজ করে আর কোন কাজ করেনি ঠিকাদার। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের চলাচলে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।
আর এই দুর্ভোগ নিরসনে এবং রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে চাটমোহর পৌর শহরের জার্দিসমোড় এলাকায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর ব্যানারে এলাকার সচেতন মানুষ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রসমাজের অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, পাবনার চাটমোহরে ১২ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও মেরামত কাজ ফেলে রেখে প্রায় চার মাস ধরে লাপাত্তা সড়ক বিভাগের এক ঠিকাদার। ফলে সড়কটি এলাকাবাসীর জন্য এখন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কজুড়ে খানাখন্দ ও অসংখ্য ছোট বড় গর্তের কারণে মানুষ চলাচলে সুফল পাচ্ছে না, পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে। এমন জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সঠিক তদারকির মাধ্যমে দ্রুত সংস্কারের দাবী জানান তারা।
উল্লেখ্য- চাটমোহর উপজেলা থেকে ভায়া হান্ডিয়াল-হামকুড়িয়া পর্যন্ত ঢাকা রাজশাহী মহাসড়কের শাখা সড়ক এটি। পাবনা সদর, আটঘরিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ কয়েকটি উপজেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এই আঞ্চলিক সড়কটি। সড়কটির কল্যাণে এইসব অঞ্চলের মানুষদের ঢাকায় যেতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হয়। ফলে চলনবিল অঞ্চলের মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে আঞ্চলিক এই মহাসড়কটি।
চাটমোহর থেকে হান্ডিয়াল হামকুড়িয়া ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার সড়কের চাটমোহর জার্দিস মোড় থেকে হান্ডিয়াল পর্যন্ত ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দে প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয় গত বছরের জুলাই মাসে। চাটমোহর বাজারের জারদিস মোড় থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কটি সংস্কারকাজ শুরু করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জের টুর্ণা এন্টারপ্রাইজ। এ কাজের সময়সীমা আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত থাকলেও এখন পর্যন্ত ১০ ভাগ কাজও শেষ হয়নি সড়কে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর