
একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বাশের সাকোই তাদের ভরসা। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন শত বছর ধরে। সেই অপেক্ষার শেষ নেই। কবে সবাই পাকা সেতু দেখবেন। প্রতিটি নির্বাচন আসলেই তাদের আশা জাগে এবার বুঝি আশা পূরণ হবে। এই অবস্থার শিকার নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেশ কয়েক হাজার মানুষ। ওই এলাকায় শাখা বরাক নদীর ওপর একটি সেতু না থাকায় এ দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে জনসাধারণকে। বর্ষায় নৌকা এবং হেমন্তে বাশের সাঁকো নিয়েই যেন তাদের জীবন আষ্টেপৃষ্টে বাধা। নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার করতে গিয়ে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরাসহ পথচারীরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
সূত্রে প্রকাশ, উপজেলার একটি অবহেলিত জনপদের নাম করগাঁও ইউনিয়নের ছোট সাকোয়া এলাকা। গ্রামের মাঝখানে রয়েছে একটি প্রাইমারি স্কুল, একটি মাদ্রাসা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বাড়িসহ ৮ টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার লোকের বসবাস। মাঝখানে শাখা বরাক নদী থাকায় দু‘পাড়ের মানুষের যাতায়াতে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।
এদিকে নদীর ওপারে রয়েছে স্থানীয় টুকের বাজার, সন্নিকটে ইউপি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন পরিষদ অফিস এবং আঞ্জব আলী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিদিন শতশত স্কুলকলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী নদী পার হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। এছাড়াও স্থানীয় নারী পুরুষ চিকিৎসা, ইউনিয়ন পরিষদে জরুরি কাজকর্মসহ ব্যবসা, বাণিজ্য ও হাটবাজার করতে স্থানীয় বাজার, এমনকি নবীগঞ্জ সদরে যেতে হয়। তার মধ্যে যুগ যুগ ধরে ওই এলাকার ছাত্র-ছাত্রী, চাকুরিজীবী, নানা শ্রেণী-পেশার অগনতি মানুষ নিত্য প্রয়োজনে নদী পারাপার করতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য ওই নদীর উপরে নেই কোন সেতু। তাদের জীবন যেন বর্ষায় নৌকা এবং হেমন্তে বাশের সাঁকো নিয়েই আষ্টে-পৃষ্টে বাধা। একটি সেতুর অভাবে অবহলেতি এই জনপদের মানুষের দুঃখের শেষ নেই। তাদের দুঃখ, দুর্দশা দেখে মনে হয় তারা স্বাধীন বাংলাদেশের বাহিরে কোন দ্বীপে বসবাস করে আসছেন। কোন মানুষ মারা গেলেও তাকে কবর স্থানে নিয়ে দাপন করতে গেলেও পরতে হয় নানান সমস্যায়।
করগাঁও ইউনিয়নের ছোট সাকুয়া গ্রামের বিশিষ্ট সমাজ সেবক শুনুক মিয়া জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ এ অঞ্চলের মানুষ স্থানীয় ইউপি পরিষদ সংলগ্ন স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য দাবী জানিয়ে আসলেও শুধু আশার বাণীই শুনছেন। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও কোন কাজ হচ্ছেনা।
করগাঁও ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওয়াহিদ মিয়া বলেন, গ্রামের ছেলে মেয়েদের বিবাহ অনুষ্ঠানেও নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে দ্রুত সেতুর অভাবে হাসপাতালে পৌঁছা সম্ভব না হওয়ায় ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
বড় সাকুয়া প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রুবেল মিয়া জানান, একটি সেতুর অভাবে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশার সীমা নেই। তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ইতঃপূর্বে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লোকজন ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এল.জি.ইডির নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আলম বলেন, বরাক নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে সেটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সেতুটি নির্মাণ করতে হলে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় হবে।
শাকিল/সাএ
সর্বশেষ খবর