
সড়ক ও রেলপথ আটকে দেওয়াসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিরাজগঞ্জ জেলার একাংশের নানা অভিযোগ ও আন্দোলনের মুখে সদ্য ঘোষণাকৃত সিরাজগঞ্জের আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সংগঠনটির ভেরিফাই ফেসবুক পেজের সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সদস্য সচিব আরিফ সোহেল স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য নিশ্চিত করা হয়। সিরাজগঞ্জের অন্যতম সমন্বয়ক মোন্তাসির মেহেদী হাসান।
তিনি বলেন, কমিটি স্থগিতের পর আমরা আন্দোলন স্থগিত করে মহাসড়ক থেকে সড়ে এসেছি।
এর আগে সদ্য ঘোষিত সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটি বাতিলের দাবীতে আন্দোলনরত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একাংশের শিক্ষার্থীরা সোমবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যানবাহন ও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। সে সময় সেতুর ওপর দিয়ে উত্তরাঞ্চল ও ঢাকার পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। সন্ধ্যা ৭ টার থেকে সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয় রাত ৮ টার পর। এর আগে বিকেল ৪ টার দিকে সেতুর পশ্চিমপাড় গোলচত্বরে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সয়দাবাদ রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মনিরুজ্জামান জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্টেশনে এসে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকামুখী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বন্ধ করে দিয়েছিল। এসময় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। সন্ধ্যা ৭ টার পর শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদ বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ব্লকেড কর্মসূচির কারণে সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর অবরোধ করে রেখেছিল। এতে সেতুর উত্তরাঞ্চল ও ঢাকামুখী সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এ কারণে মহাসড়কের উভয় প্রান্তে যানজট সৃষ্টি হয়। রাত ৮টার পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেওয়ায় মহাসড়কের অবস্থা স্বাভাবিক হতে থাকে।
নতুন এই আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত হওয়ায় সিরাজগঞ্জ জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মুনতাসীর মেহেদী কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সদস্য সচিব আরিফ সোহেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সদস্য সচিব আরিফ সোহেলের স্বাক্ষর করা একটি পত্রে ২৮৪ সদস্য বিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
এতে সজীব সরকারকে আহ্বায়ক, মেহেদী হাসানকে সদস্য সচিব, ইকবাল হোসেন রিপনকে মুখ্য সংগঠক ও টি, এম মুশফিক সাদকে মুখপাত্র করা হয়। এরপর থেকে এ কমিটি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একাংশের শিক্ষার্থীরা অন্যতম সমন্বয়ক মুন্তাসির মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে আন্দোলনে নেমেছিল।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর