
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ইতিহাস সাক্ষী বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্র হরণ হয়েছে। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া বারবার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কি প্রচণ্ড চাপের মুখে জীবন ধারণ করতে হয়েছে, গুম-খুন হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগষ্টে এত দিনের পরিস্থিতির পরিবর্তন হলো। আমাদের দাবি ছিল স্বৈরতন্ত্র-ফ্যাসিবাদের পতন করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে কিন্তু গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় নাই। যারা দায়িত্বে আছেন তারা জোর করে সেখানে বসেন নাই। আমরা তাদেরকে সেখানে বসিয়েছি মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য। মানুষ যাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পার, যাতে ন্যায্যমূল্যে দ্রব্যাদি কিনতে পারে।
আমার কৃষক যাতে তার ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় এবং অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যেন নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় সিরাজগঞ্জ শহরের ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাছে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে ফ্যাসিবাদের বিচারসহ সংস্কারের নামে যে দাবিগুলো উঠছে সেগুলোর আগে যেটা দরকার তা হলো সকলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন। দরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকার।
বর্তমানে সংস্কারের নামে যে দাবিগুলো করা হচ্ছে সেগুলো অনেক আগেই বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ এর মধ্যেই ছিল। বর্তমানে দেশ নায়েক তারেক রহমানের ৩১ দফায়ও বিদ্যমান। তাই সংস্কারের নামে দেশের জনগণকে কষ্ট দিয়ে অন্য কিছু করার চিন্তা করা হলে সেটা দেশের মানুষ মানবে না।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা চাই যারা এত বছর ধরে মানুষকে খুন করেছে, অত্যাচার করেছে তাদের দ্রুত বিচার করতে হবে। তাদের রাজনীতি করার অধিকার তখনেই আসবে, যখন তাদের মধ্যে যারা শাস্তি প্রাপ্য তারা শাস্তি পাবে। কিন্তু তার জন্য নির্বাচন অপেক্ষা করার কিছু নাই। যেই সরকারই আসুক, সবারই একই দায়িত্ব সেটা হলো ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার করতে হবে। যারা বলেন বিএনপি সংস্কার চায় না তারা মিথ্যা বলেন।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ ঘোষণা একটি সংস্কার প্রস্তাব। তারেক রহমান ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন, সেটাও সংস্কার প্রস্তাব। দাবিনামা না, এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি। যারা নতুন নতুন দাবি করে মনে করছেন যে নতুন কিছু দাবি করছেন সেটা ভুল। উচ্চকক্ষের দাবি আমরা বহু আগেই করেছি, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার কথা অনেক আগেই বলেছি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বারবার জীবন দিয়েছে পরিবর্তনের জন্য। কিন্তু পরিবর্তন হয় নাই। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে মা-বোনেরা সম্ভ্রম হারিয়েছেন। যে গণতন্ত্রের জন্য যে সাম্যের জন্য যে মানবিক মর্যাদার জন্য জীবন দিয়েছিলেন আমরা সেটা দিতে পারি নাই।
মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আইন করে দেশে একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েম করা হয়েছিল। এরপর ৭ নভেম্বর শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরলে দেশের মানুষ আশস্ত হয়। তিনি বাকশাল বাতিল করে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন। দেশের অর্থনীতির চাকা আবারও সচল করেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম খান আলিম।
এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান তালুকদার, এম আকবর আলী, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মজিবর রহমান লেবু, আজিজুর রহমান দুলাল, নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস, নুর কায়েম সবুজ, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাপা, সিমকি ইমামখান, যুবদল নেতা মুরাদুজ্জামান মুরাদ, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আব্দুল্লাহ আল কায়েসসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মুনতাসির/সাএ
সর্বশেষ খবর