
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের উচিতার বিল এলাকায় এক আ.লীগ নেতার জিএলবি নামের একটি ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেছে পাঁচ বছর আগে। ভাটাটিতে ২০২০ সালের পর আর ইট উৎপাদন হয়নি। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সেই বন্ধ ইটভাটায় চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফান উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে খননযন্ত্র দিয়ে ইটভাটার অফিসকক্ষ ও ভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন বলেন, চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুর ও হারবাং ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকায় অন্তত চারটি ইটভাটা অবৈধভাবে চলছে। এসব ভাটার একটিরও পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নেই। এসব অবৈধ ইটভাটার একটিতেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এসব ইটভাটা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। প্রতিটি ভাটায় ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি ভাটার ইট উৎপাদনে পাহাড়ের মাটিও ব্যবহার করা হচ্ছে। ভাটার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। উচিতার বিল এলাকায় অবস্থিত জিএলবি নামের ইটভাটাটির মালিক ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্য আওয়ামী লীগের নেতাদের মতো গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীও পালিয়ে যান।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইটভাটায় ঢুকতেই বাঁ পাশে বরইবাগান আর ডান পাশে তামাকখেত ও ধান চাষের জমি। ৩০ ফুট সামনে ইটভাটার মেঝে ও চিমনি। চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এরফান উদ্দিন ভাটার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে চিমনি গুঁড়িয়ে দিতে নির্দেশ দিচ্ছেন। খননযন্ত্রের চালক চিমনি গুঁড়িয়ে দেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। থানা-পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ ভাটার কাছে যেতে মানুষকে নিষেধ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা দিলোয়ারা বেগম (৪৫) গণমাধ্যমে বলেন, পাঁচ বছর ধরে ইটভাটাটি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে ভাটার জমিতে বরই, ধান ও তামাকখেত করা হয়েছে। হঠাৎ করে ভাটাটি ভাঙচুর শুরু করা হয়। শুধু গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর ইটভাটা নয়, গতকাল মঙ্গলবার হারবাং এলাকার আরও দুটি বন্ধ ভাটায় অভিযান চালান সহকারী কমিশনার (ভূমি) এরফান উদ্দিন। অথচ পাশের এসবিএল ভাটায় ইট উৎপাদন চললেও সেটিতে অভিযান চালানো হয়নি।
জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফান উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের জেএম শাখার নির্দেশনায় জিবিএল ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়েছে। বন্ধ ইটভাটাগুলোতে কেন অভিযান চালানো হয়েছে, এসবের বিস্তারিত তথ্য ওই সব জায়গায় গেলে পাওয়া যাবে। উৎপাদনে থাকা ইটভাটাগুলোতে অভিযান না চালাতে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এরফান উদ্দিন।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর