
কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রুহুল্লার ডেইল গ্রাম অভিমুখে সড়কটির সংস্কারের কাজ শুরু হয় কয়েক মাস খানেক আগে।
কিন্তু এই সড়ক নির্মাণ কাজের বালু বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহ আলম ছিদ্দিকীর হুমকির মুখে পড়ে কাজ ফেলে লাপাত্তা হয়ে আছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী লোকজন। ফলে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে; কিংবা বর্ষাকাল আসলে কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে এমন দুশ্চিন্তায় বিষণ্নতায় ভুগছেন তারা।
এমতাবস্থায় ফের কাজ শুরু করার দাবিতে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর রুহুল্লার ডেইল এলাকায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা। এসময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহ আলম ছিদ্দিকী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেলের বালু ব্যবসার দ্বন্দ্ব কিংবা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এমন দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করেছেন তারা।
স্থানীয় গ্রামবাসী ও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করে বলেন, অবহেলিত রুহুল্লার ডেইল গ্রামে চলতি বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে গ্রামীণ এই সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজম কনস্ট্রাকশন।
কাঁচা সড়ক পাকা করার জন্য খোঁড়া হয় মাসখানেক আগে। এতে ভরাট কাজে ব্যবহৃত বালু বিক্রির দায়িত্ব নেন খুরুশকুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহ আলম ছিদ্দিকী। তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চাহিদামতো বালু দিতে না পারার কারণে দায়িত্ব দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল সোহেলকে।
তিনি বালু ভরাটের কাজ শুরু করলে বাধ সাধেন বিএনপি নেতা শাহ আলম ছিদ্দিকী। পরে তার লোকজন এসে বাধা দেন এবং দায়িত্বে থাকা এলজিইডির সাব ইঞ্জিনিয়ার নাগরকে শারীরিক হেনস্তা করে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনসহ শ্রমিকরা কাজ ফেলে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘ বছর অবহেলার পর কাঁচা সড়কটি নিয়ে আশার মুখ দেখেছিলাম আমরা। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের নানা জায়গায় যাওয়াসহ প্রতিদিন স্কুল-কলেজে ও প্রাথমিকের শিশুরা যাতায়াত করে। সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় অনেক খুশি হয়েছিল এলাকাবাসী।
কিন্তু বিএনপি নেতার বালু ব্যবসা কিংবা ইউপি সদস্য সোহেলের আধিপত্য বিস্তারের কারণে তা এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দু’জনের বালু বাণিজ্যের দ্বন্দ্বে কাজটি বন্ধ থাকায় গ্রামের লোকজনের চলাচলে অনেক অসুবিধা হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, সংস্কারকাজ শুরুর আগে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারতাম। এখনতো চলাই দায়। মাটি খোঁড়ার কারণে ধুলায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে আশেপাশের বাড়িগুলো। বিএনপি নেতার লোকজনের হুমকির কারণে কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার উধাও হয়ে গেছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটির কাজ শুরুর জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক যুবক বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহ আলম ছিদ্দিকী ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে নিজেকে সর্বসেরা মনে করে সবকিছু নিজের দখলে রাখতে চান। তিনি ছাড়া এলাকায় কেউ কিছু করতে পারবেনা; এমন মানসিকতা নিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠে। অন্যদিকে ইউপি সদস্য সোহেলও নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চেষ্টা করছে। ফলে দুই পক্ষই ক্ষমতা আয়ত্তে নিতে চাওয়ায় এমন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুই কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কারের জন্য খুঁড়ে রেখে দিয়েছে। কিছুদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকার কারণে সেসব মাটি সরে গিয়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় গর্ত কিংবা উঁচু নিচু স্থানের সৃষ্টি হয়েছে। কুঁড়ে রাখা কাঁচা মাটির উপর গাড়ি চলাচলে ধুলোর কারণে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী কয়েক হাজার মানুষকে নিয়মিত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই সড়কটি দিয়ে চলছে। টমটম, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের ব্রেক চাপলে চাকা পিছলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় একটি বিশাল চক্র তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন বলে দাবি করে বিএনপি নেতা শাহ আলম ছিদ্দিকী বলেন, সড়কটির নির্মাণ কাজে ইউপি সদস্য সোহেল প্রথমে চাঁদা দাবি করে। পরে আমার সাথে চুক্তি হওয়া সড়কটির মধ্যে তিনি জোরপূর্বক বালু ব্যবসার চেষ্টা করে। পরে এসে আমার কাজের মধ্যে তিনি বাধা প্রধান করে নানা ঝামেলা সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল বলেন, সড়কের কাজে ব্যবহৃত বালুর জন্য প্রথমে বিএনপি নেতা শাহ আলমের সাথে চুক্তি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যেদিন ৫০ গাড়ি বালু লাগার কথা ওইদিন তিনি ২০ গাড়ি সরবরাহ করতে পারেন। এমতাবস্থায় দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটি আমাকে অনুরোধ করলে আমি সেখানে বালু সরবরাহ শুরু করি।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ক্ষমতার প্রভাব কাটিয়ে শাহ আলম ও তার লোকজন বাধা দিয়ে সাব-ইঞ্জিনিয়ার নাগরকে হেনস্তা করে কাজ বন্ধ করে দেন। শাহ আলম ছিদ্দিকী নির্বিচারে পাহাড় কেটে সেখানে বালু মাটি সরবরাহ করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী নাগর বলেন, একটু ঝামেলা হয়েছিল একথা সত্য। কিন্তু এখন আমাদের মাঝে সমঝোতা হয়ে গেছে।
এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন প্রকৌশলী মেহেদী। কি কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মুনতাসির/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর