
ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইসলামি সংস্কৃতির বিকাশ ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় মডেল মসজিদ অনন্য ভূমিকা রাখবে। এই মসজিদ থেকেই সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষায় সকলকে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ করেন। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যপূর্ণ দেশ। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সকল ধর্মের মানুষের অবদান রয়েছে। তিনি বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তুলতে দুর্নীতির মানসিকতা পরিহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
মানুষ নামাজমুখী হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে যাবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া বাজারে নবনির্মিত উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ধর্ম উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, মসজিদ পবিত্র ও উত্তম স্থান। যত বেশি মসজিদ নির্মিত হবে ততো বেশি মুসল্লী তৈরি হবে। মানুষ যত বেশি নামাজের দিকে ধাবিত হবে সমাজ ততো বেশি অপরাধমুক্ত হবে। নামাজ মানুষকে সকল ধরনের গর্হিত কাজ থেকে দূরে রাখে।
মুসল্লিবিহীন মসজিদ কেয়ামতের লক্ষণ উল্লেখ করে তিনি মসজিদকে আবাদ রাখতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, মডেল মসজিদের মাধ্যমে দেশে ইসলামী আবহ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে দেশে ধর্ম পালনের যে ঐতিহ্য তা আরো বেগবান হবে। এ ছাড়া মানুষের নৈতিকতার উজ্জীবন ঘটবে।
মডেল মসজিদকে কেন্দ্র করে বিশাল কর্মযজ্ঞ আবর্তিত হবে মন্তব্য করে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, পেকুয়া উপজেলা মডেল মসজিদটি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে নির্মাণ করেছে।
প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই তিনতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তর এটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। স্থাপনাটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এ মডেল মসজিদে একসাথে ৯৫০ জন মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারবে। এরমধ্যে আলাদা প্রবেশপথসহ ১২০ জন মহিলার নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
এ মসজিদে পুরুষ, মহিলা, অক্ষম ও বয়স্কদের ওযু ও নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। এখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসসহ ইমাম প্রশিক্ষণ, হজযাত্রী নিবন্ধন, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, অটিজম কর্নার, এতিমখানা, মৃতদেহ গোসল, ইসলামিক লাইব্রেরি ও ইসলামি বই বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া, এখানে সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের আবাসন ব্যবস্থাসহ গেস্ট রুম, কনফারেন্স রুম ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের অধীনে ইতোমধ্যে ছয়টি পর্যায়ে নির্মাণকাজ শেষে মোট ৩০০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। চলতি মাসে পেকুয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ সারাদেশে মোট ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হবে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, চট্টগ্রাম গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একিউএম শাহজালাল মজুমদার ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন সজীব ও মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ ফেরদৌস-উজ-জামান।
পরে উপদেষ্টা পেকুয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধনের ফলক উন্মোচন করেন এবং সেখানে মোনাজাতে অংশ নেন।
মুনতাসির/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর