
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে শিগগিরই নতুন ছাত্রসংগঠন স্বতন্ত্র ছাত্র সংগঠন গড়তে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। স্টুডেন্ট ফার্স্ট ও বাংলাদেশ ফার্স্ট মূলনীতিকে সামনে রেখে, গঠন করা হবে এই সংগঠন। ইতোমধ্যে সংগঠনের মৌলিক প্রস্তাবনা ঘোষণা, আজ-কাল জনমত জরিপ শেষে আত্মপ্রকাশ করবে এই সংগঠনটি।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তি থেকে নতুন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন গঠনের প্রক্রিয়া’ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এমনটা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরকাঙ্খিত সংগঠন প্রতিষ্ঠার পটভূমি অবতারণা করেন।
কাদের বলেন, বিগত ১৬ বছর বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের করালগ্রাসে নিমজ্জিত হয়েছিল। সারাদেশের শান্তিকামী জনতা চরম উৎকণ্ঠা, হতাশা, এবং ভয়ে নিমজ্জিত হয়ে দিনাতিপাত করেছে। দেশের সর্বস্তরে কায়েম করা হয়েছিল, কাঠামোগত এবং সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ। যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সকল নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এবং ফ্যাসিবাদের দোসররা ক্রমাগত অধিকার হরণের বৈধতা উৎপাদন করে গেছে।
বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গণ, ও শিক্ষার্থীরা এই ফ্যাসিবাদের হাত থেকে রক্ষা পায় নি, বরং শিক্ষাঙ্গনে ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদ কায়েম, ট্যাগিং সংস্কৃতি, সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ কায়েমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার, শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাব্যবস্থা কে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্ষদ, আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র সংগঠন বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ, আওয়ামী লেজুড়বৃত্তি নীল দলের শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রয়াসে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রাখা এই বিগত রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে নির্মিত নতুন বাংলাদেশ আমাদেরকে এক নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি জানান দেয়। অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্রসমাজ এই নতুন ধারার রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছাত্রসমাজের নতুন রাজনীতিকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সুনির্দিষ্ট এবং সুপরিকল্পিত প্রস্তাবনার প্রয়োজনীয়তা খুবই জরুরি।
কাঙ্ক্ষিত সংগঠন ঘোষণার বিষয়ে মৌলিক প্রস্তাবনা ও কর্মসূচির বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার
প্রস্তাবনা গুলো হলো আদর্শিক বাইনারির কালচারাল দ্বন্দ্বের বাইরে গিয়ে মধ্যমপন্থী ছাত্ররাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে অন্তর্ভুক্তি মূলক ছাত্ররাজনীতি তৈরি করা। যেখানে পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অবমূল্যয়ন করা হবে না। আমাদের জুলাই আগস্ট গণঅভুথানের ভিত্তি সকলের অংশগ্রহণে গঠিত হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দল ই আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে।
মূলধারার রাজনৈতিক পরিসরে নারীদের যে অনুপস্থিতি রয়েছে সেটিকে অ্যাড্রেস করে নারীর রাজনৈতিক মানস বিনির্মাণ করা, রাজনৈতিক চর্চার পরিবেশ তৈরি করা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নারীবান্ধব করে তোলার মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগের সৃষ্টি করা।
শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে আপসহীন ছাত্র রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া। বাংলাদেশের সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে স্বীকার করে এবং ৪৭, ৫২, ৬২, ৬৬, ৬৮, ৬৯, ৭১, ২০ ৫ ২৪-এর সকল গণআন্দোলন এবং ছাত্রজনতার সংগ্রামী চেতনাকে ভিত্তি করে ছাত্ররাজনীতি সক্রিয় থাকবে। ফ্যাসিবাদকালীন সকল শিক্ষা পরিসরে পরিকল্পিতভাবে যে রাজনৈতিক ডিজএম্পাওয়ারমেন্ট করা হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শিক্ষার্থী সংসদ কাঠামোকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। নতুন ছাত্ররাজনীতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী সংসদ কাঠামো পুনর্বহালে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হবে।
নির্বাচন অব্যাহত রাখার জন্য দ্বাত্র সংগঠন সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। ছাত্র -নাগরিক সংহতি রক্ষার মধ্য দিয়ে ছাত্র-নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আজকে অনলাইনে ও আগামীকাল অফলাইনে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে সদস্য সংগ্রহ ও শিক্ষার্থীদের জনমত জানতে আমাদের কর্মসূচি পালিত হবে।
কবে নাগাদ নতুন দল আত্মপ্রকাশ করবে সে প্রশ্নের জবাবে আবু বাকের বলেন আমাদের সদস্য সংগ্রহ, ও জনমত গঠন শেষ হলে আমরা আপনাদের নতুন দলের নাম জানিয়ে দিবো।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর