
জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) পুরো নাম সংশোধন করতে হলে এখন থেকে দিতে হবে ঋণ ও মামলার তথ্য। এক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ঋণ ও মামলা আছে কি-না সে তথ্য সংগ্রহ করে এনআইডি সংশোধনের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
ইসি কর্মকর্তারা বলেন, কোনো নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম সংশোধনের প্রয়োজন হলে বিদ্যমান যে নাম রয়েছে সেই নামে কোনো ঋণ বা আদালতে তার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি বা অন্য কোনো মামলা আছে কি-না তা জানাতে হবে।
নাম সংশোধনে ঋণ বা মামলার তথ্য কেন জানাতে হবে তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এমন অনেক বিষয় আমাদের সামনে আসছে যেখানে দেখা যাচ্ছে ঋণ ও মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে নাগরিকরা এনআইডি নিজের পুরো সংশোধন করে নিচ্ছে পরবর্তীতে এর দায় নির্বাচন কমিশনের উপরে এসে পড়ছে। আবার দেখা যায় নাম পরিবর্তন করে নিজের ভাই বা অন্যের সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে করে কোনো অপরাধী যেন নাম পরিবর্তন করে পালিয়ে যেতে না পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জবাবে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, একজন মানুষ যদি নাম পরিবর্তন করে ফেলে আর আগের নামে যদি কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থাকে তাহলে ওই মানুষটাকে আর ধরা যাবে না। এজন্য পুরো নাম পরিবর্তন করতে আসলে তাদের এ ধরনের কোনো দায় আছে কি-না তা জানাতে হবে।
এনআইডিতে নাম কেন পরিবর্তন করে তার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাম পরিবর্তনের নানা কারণের মধ্যে একটা কারণ হচ্ছে যে সে হয় সে সম্পদ ভোগ দখল করতে চাই না ভোগ দখল করে ফেলেছে এখন সেখান থেকে নিজেকে বাঁচাতে চায় অথবা সে কোনো অপরাধ থেকে রেহাই পেতে চায়। এছাড়া আর কোনো কারণ নেয়।
তিনি বলেন,যখন কোনো ব্যক্তি পুরো নাম সংশোধন করে পরিবর্তন করে ফেলবে তখন কিন্তু তাকে আর পুরোনো নামে খুঁজে পাওয়া যাবে না।আমার ডাটা বেইজ থাকবে কিন্তু অন্য কেউ কিন্তু তাকে আর খুঁজে পাবে না। এ জন্য আমি বলছি যে এটার প্রয়োজন আছে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন- নিজ নাম, পিতার নাম ও মাতার নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের করা যায় কি-না সে চিন্তাও করছি।এছাড়া ব্যাংকগুলোকেও চিঠি দেওয়া যায় কি-না সে বিষয়ে চিন্তা করছি। এটি ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে মনে হয়েছে।
ইসি সূত্র জানা যায়, আবেদনকারী কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেন নাই এবং এই নামে বাংলাদেশের কোন থানায় বা আদালতে তার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি বা অন্যবিধ মোকাদ্দমা নেই মর্মে হলফনামায় উল্লেখ থাকতে হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আবেদনকারীর পিতা/মাতার ওয়ারিশ সনদে বর্ণিত জীবিত ব্যক্তিগণের সাক্ষ্য, মতামত ও অনাপত্তি সংক্রান্ত জবানবন্দি রেকর্ড করত আবেদনকারীর নামে কোন মামলা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে তথ্য সংশ্লিষ্ট থানা থেকে পত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ পূর্বক উক্ত প্রতিবেদনে উল্লেখসহ সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর