
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত কক্সবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও প্রশাসনে তদবীরবাজসহ ‘নির্দিষ্ট একটি দলের’ লোকজনকে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে কমিটিতে নাম থাকা অনেকে পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সদ্য ঘোষিত জেলা কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক ও ছাত্র প্রতিনিধি জুনায়েদ হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত কক্সবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটি একটি পকেট নির্ভর কমিটি। এই কমিটিতে আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া অনেককে রাখা হয়নি।
এতে নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতি আস্থাশীল লোকজনকেই বেশি স্থান দেওয়া হয়েছে। যাদের অনেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মামলাবাজি, দখলবাজি ও প্রশাসনে তদবিরবাজীসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে কমিটিতে নাম থাকা অনেকে ক্ষুব্ধ হয়ে রাতেই নিজেদের ফেইসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগ করেছেন।’
চিহ্নিত অপরাধীদের নাম থাকা কমিটি সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্র প্রতিনিধিরা মেনে নেবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
সদ্য ঘোষিত জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে নাম থাকা সাগর-উল-ইসলাম জানান, কমিটিতে তার নাম থাকলেও আন্দোলনে ব্যাপক অবদান থাকা অনেককে রাখা হয়নি। চিহ্নিত কিছু অপরাধীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। যা জুলাই-আগস্টের চেতনার পরিপন্থি। এ কারণে ঘোষিত কমিটি থেকে তিনি নিজের নাম প্রত্যাহার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলন পদত্যাগ করা ছাত্র প্রতিনিধিদের একাংশের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঘোষিত জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব সাগর-উল-ইসলাম, আহবায়ক জুনাইদ হোসাইন, আতাহার সাকিব, নোবিল জালাল, যুগ্ন সদস্য সচিব রবিউল হোসেন, তাশদিদ উর রেজা, সাফওয়ান আল আজিজ। এছাড়াও রয়েছেন, সাঈদ স্বাধীন, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসাইন, মইনুর রশিদ, মোহাম্মদ নূর, হোসাইন মো. সাজ্জাদ, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইদি, তাইফ বিন কাদের, আনছারুল করিম, ইরফান সাঈদ, মিনহাজ উদ্দিন মিশুক, মিনহাজ উদ্দিন, আরিয়ান খান ফারাবি, এমএ মান্নান, মোহাম্মদ রায়হান, সাকিব আবির, মোহাম্মদ সম্মাট, মোহাম্মদ রিদওয়ান, মোহাম্মদ রিয়াদ প্রমুখ।
এ নিয়ে একজনের নাম একাধিক পদে এবং কয়েকজনের নামের বিভ্রাটসহ ছোটখাট কিছু ভুল সংশোধন ও পরিমার্জনের উদ্দেশে সাংগঠনিক ফেসবুক আইডিতে করা পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে তথ্য দিয়ে ঘোষিত জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাহেদুল ইসলাম সাহেদ বলেন, ‘কেন্দ্রে কমিটি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জেলার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলনে কার কী অবদান তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সম্যক অবগত। ঘোষিত কমিটির ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভাল ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। আর কমিটি ঘোষণার সঙ্গে জেলার কারও কোনো সম্পৃক্ততাও নেই।’
তবে কমিটিতে অপরাধে জড়িত থাকা লোকজনকে স্থান দেওয়ার দাবি সম্বলিত তথ্য সত্য নয় মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ‘কমিটিতে থাকা ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে বুধবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি সাহেদুল ইসলাম সাহেদকে আহ্বায়ক এবং সাগর-উল-ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৩০০ জনের কক্সবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের নামের তালিকাও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক ফেসবুক পেইজে পোস্ট করা হয়।
কিন্তু এক ঘণ্টা পর কমিটির নামের তালিকা সম্বলিত পোস্টটি বৈবিছাআ এর ফেসবুক থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপরই কমিটিতে ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক পরিচয়ে চিহ্নিত অপরাধীদের স্থান দেওয়া হয়েছে দাবি করে কিছু সংখ্যক ছাত্র প্রতিনিধি নিজেদের পদত্যাগের কথা জানান এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
এ নিয়ে বুধবার গভীর রাতে কক্সবাজার শহরের ভোলা বাবুর পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকার প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। ঘণ্টাখানেক পর জ্যেষ্ঠ ছাত্র প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
মুনতাসির/সাএ
সর্বশেষ খবর