
ইন্দোনেশিয়ার রক্ষণশীল আচেহ প্রদেশে বৃহস্পতিবার দুই পুরুষকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। এর আগে তারা কঠোর ইসলামী আইনের অধীনে পরিচালিত একটি আদালতে যৌন সম্পর্কের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। এএফপির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়ার অন্য কোথাও সমকামী সম্পর্ক আইনত নিষিদ্ধ নয়। তবে আচেহ প্রদেশে এটি নিষিদ্ধ। কারণ সেখানে শরিয়া আইন কার্যকর রয়েছে।
প্রাদেশিক রাজধানী বান্দা আচেহর একটি পার্কে স্থানীয় সময় দুপুরের আগে বেত্রাঘাত শুরু হয়। আদালত এক ব্যক্তিকে সম্পর্ক শুরুর জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করে ৮২ বার ও অপরজনকে ৭৭ বার বেত্রাঘাত করার আদেশ দিয়েছিলেন।
তবে তিন মাস আটক থাকার কারণে তাদের শাস্তি থেকে তিনটি করে বেত্রাঘাত কমিয়ে দেওয়া হয়। এএফপির একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, দর্শকদের সামনে দুই ব্যক্তিকে বেত দিয়ে প্রহার করা হয়। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সব ব্যক্তির জন্য চিকিৎসা সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
গত নভেম্বরে স্থানীয়রা বান্দা আচেহর একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে এই দুই পুরুষকে একসঙ্গে পায়। এরপর তাদের যৌন সম্পর্কের অভিযোগে শরিয়া পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই শাস্তিকে ‘ভয়ংকর বৈষম্যমূলক আচরণ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। সংস্থাটির আঞ্চলিক উপপরিচালক মন্টসে ফেরের এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে হওয়া ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনোই অপরাধ বলে গণ্য করা উচিত নয় এবং কারও প্রকৃত বা অনুমিত যৌন পরিচয়ের কারণে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।’
একই পার্কে বৃহস্পতিবার আরো দুই ব্যক্তিকে অনলাইনে জুয়া খেলার অভিযোগে যথাক্রমে ৩৪ এবং ৮ বার চাবুক মারা হয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটররা।
এএফপির তথ্য অনুসারে, আচেহ প্রদেশের জনগণের মধ্যে শরিয়া আইনের আওতায় চাবুক মারা এখনো জনপ্রিয় শাস্তি হিসেবে প্রচলিত, যা জুয়া খেলা, মদপান ও ব্যভিচারের মতো অপরাধের জন্য প্রয়োগ করা হয়।
২০০১ সালে ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ দমনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আচেহ প্রদেশকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার পর সেখানে ইসলামি আইন চালু হয়।
মুনতাসির/সাএ
সর্বশেষ খবর