
ঢাকার ধামরাইয়ে কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনকে (৫০) হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে ধামরাই উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নিহত বাবুলের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনসহ স্থানীয় শতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেয়।
মানববন্ধন শেষে ধামরাই উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে “বাবুল হত্যার বিচার চাই”, “বিচার চাই, করতে হবে”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
নিহত বাবুল হোসেন ধামরাইয়ের বড় কুশিয়ারা গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে। কুল্লা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে তিনবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত ছিলেন ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের মাখুলিয়া এলাকায় হোম টাউন নামে এক আবাসন প্রতিষ্ঠানের ফাঁকা জমিতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে হোম টাউনের ভেতরে বাবুল ও তার স্ত্রী সরিষা মাড়াইয়ের কাজ করছিলেন। ওই সময় পূর্বশত্রুতার জেরে শওকত, মনির, আরশেদ, শরিফ, আফসান, রাজিবসহ আরও ১০-১৫ জন সেখানে এসে প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রীর সামনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় হত্যাকারীরা সবাই চিহ্নিত। আমরা হত্যায় জড়িতদের অনতিবলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা ও তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানাই। তা না হলে এই চেয়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
মানববন্ধনে অংশ নেয় নিহত বাবুলের দুই শিশু সন্তান ও স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার। তারা হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করেন। এছাড়া নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে হত্যাকারীরা তাদেরও হুমকিধমকি দিচ্ছেন বলে জানান তারা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবুলের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার বলেন, “একজনে নিল রাম দা। আমার স্বামীরে ওরা পিটিয়ে পিটিয়ে মারল। আমার স্বামী বারবার বললো, আমার পা ভাঙছে। আমাকে মেডিকেলে নাও। আমার জান ভিক্ষা দাও। আমি অনেক কাকুতি মিনতি করে বললাম, আমার স্বামীকে একটু বাঁচাও আর মারো না। তারে এমনভাবে মারলো, চোখগুলো আমার সামনে উঠিয়ে ফেললো। কোপালো, হাতুড়ি দিয়ে পিটালো। মারতে মারতে যখন বুঝলো, বাঁচবো না, তারপর মোটরসাইকেল ভাঙলো। তারপর চলে গেল। ওরা ছাড়া বেশি মানুষ ছিল না। আমি আমার স্বামীর এই চিহ্নিত হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমার ছোট ছোট বাচ্চা, এদের নিয়ে কোথায় যাব? এদের ভবিষ্যৎ কি হবে? আমি চাই, আমার স্বামীকে যারা কুপিয়ে হত্যা করেছে, তাদের আটক করে, ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে যেন শাস্তি দেওয়া হয়।”
বাবুলের শিশু সন্তান ইয়ামিন বলে, “আমার বাবাকে যে হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই। আমাদের এতিম করেছে, তাদের ফাঁসি চাই। আমরা এখন কোথায় যাব? আমাদের মারতে স্কুলে গেছিল। আমাদের স্যারেরা আমাদের অন্য ক্লাসরুমে রাখছিল। নাহয় আমাদেরও মারতো। আমার আম্মুকে রাম দা দিয়ে কোপ দিছিল।”
আরেক ছেলে ইভান বলে, “আমার বাবাকে যে মারছে তাদের ফাঁসি চাই। আমি স্কুল থেকে আসছি, সাখাওয়াত আমারে কয়, তোরে টেঁটা দিয়ে পার মাইরা মাইরা ফালামু। বাবুলের বংশ থামবে না। আমার ভাই স্কুলে গেছে, তারে টেঁটা দিয়ে মারতে গেছে। আমরা বাঁচব কিভাবে?”
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা এরই মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর