
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ এবং চীনের সাংহাই ওশান ইউনিভার্সিটি ডিপার্টমেন্ট অব হাইড্রো-বায়োলজির গবেষকরা যৌথভাবে বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উপর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। গবেষণাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইলিশের সে ক্স রিভার্সাল, কমপ্লিট জিনোম এবং পপুলেশন জিনোমিক্স।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে এক সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলনে এসব গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মল্লিক আকরাম হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।
ইলিশের লিঙ্গান্তরের রহস্য: গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে পদ্মা, মেঘনা এবং বঙ্গোপসাগরের ছয়টি অঞ্চলে সংগৃহীত ২০৩টি ইলিশ মাছের মধ্যে সাতটি মাছের জনন টিস্যুতে শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর সহাবস্থান ছিল, যা লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রমাণ বহন করে। গবেষকরা অনুমান করেছেন, ইলিশ প্রথম বছরে পুরুষ হিসেবে প্রজনন সম্পন্ন করে এবং খাদ্যের সন্ধানে সমুদ্রে চলে যায়। সেখানে ধীরে ধীরে এটি স্ত্রীতে রূপান্তরিত হয় এবং দ্বিতীয় বছর নদীতে ফিরে এসে প্রজনন করে।
ইলিশের জিনোম সিকোয়েন্স: এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করা হয়েছে, যা অতীতের তুলনায় আরও বেশি সম্পূর্ণ। গবেষকরা সমুদ্র ও নদী থেকে সংগৃহীত ১৪টি ইলিশের টিস্যু থেকে আরএনএ সংগ্রহ ও সিকোয়েন্স করেছেন, যার মাধ্যমে ইলিশের সুস্বাদু হওয়ার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।
ইলিশের পপুলেশন সংকট: গবেষণায় জানা গেছে, বাংলাদেশের ইলিশের একটি পপুলেশন রয়েছে, যা মাছটির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশগত বা দূষণজনিত বিপদে পড়ে এই এক পপুলেশন টিকতে না পারলে বাংলাদেশে ইলিশ মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। গবেষকরা বলেছেন, মাছটির কম জেনেটিক বৈচিত্র্যও এটি দুর্বল করে তুলছে। এজন্য ইলিশের সুরক্ষায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
চীনের সাংহাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. কিশোর কুমার সরকার এবং অধ্যাপক ড. চিনহংলি এ গবেষণার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ড. কিশোর কুমার সরকার বলেন, "ইলিশের প্রজনন সম্পর্কে এই গবেষণা আমাদের জন্য একটি রিস্ক ড্রাইভ ছিল।"
উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, "ইলিশ মাছ নিয়ে যে গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। এই গবেষণাগুলি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
এই গবেষণাগুলি বাংলাদেশের ইলিশ মাছের জীবনচক্র এবং সুরক্ষায় বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর