
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে চেক জালিয়াতির মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এরই প্রতিবাদে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক মিলনায়তনে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার উপজেলার শহরতলি কালিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। একজন দক্ষ শিক্ষিকা হিসেবে তিনি ২০১৯ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও ২০১৮ সালে জয়িতা পুরস্কার পেয়েছেন। তাকে চেক জালিয়াতি করে হয়রানি, জোরপূর্বক মারধর করে প্রাণ নাশের চেষ্টা, অর্থ ছিনতাই মামলা, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানহানির চেষ্টা করেছেন রুপালি ইয়াসমিন নামের এক নারী।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষিকা নাজমুন নাহার জানান, নালিতাবাড়ী পৌর শহরের দক্ষিণ বাজার বাসিন্দা দাদন ব্যবসায়ী রুপালী ইয়াছমিনের কাছ থেকে তার পারিবারিক প্রয়োজনে গহনা বন্ধক রেখে কয়েক ধাপে ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা দাদন গ্রহণ করেন। এদিকে, পাওনা টাকা পরিশোধ করলেও রুপালির নিকট পূর্বে গচ্ছিত রাখা চেক দিয়ে তার নামে দশ লক্ষ টাকার চেক জালিয়াতি মামলা দায়ের করেন। এমনকি ওই চেকটি ছিনতাই করে নেওয়ার অভিযোগে শিক্ষিকা নাজমুন নাহারের স্বামী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাট্যশ্রমী জুয়েল রানাকেও মামলার আসামি করে রুপালী। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও সাজানো নাটক। তার সম্মানহানি করতেই ওই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ভাড়াটিয়া হিসেবে পৌর শহরের দক্ষিণ বাজার ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে রুপালীর সাথে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে গহনা বন্ধক রেখে দাদন সুদে অর্থ লেনদেন করেন। বন্ধককৃত গহনা বিক্রি করে সমুদয় টাকা পরিশোধ করলেও আগে থেকে তার কাছে সংরক্ষিত চেক জালিয়াতির মামলা করেন রুপালি। এছাড়াও রুপালির বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তার ওই প্রতারণামূলক চেক জালিয়াতির হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে প্রতারক রুপালির বিচার দাবি করেন তিনি।
এদিকে, চেক জালিয়াতির প্রতারণামূলক মামলার বিষয়ে জানতে চেয়ে রুপালি ইয়াসমিনের মুঠোফোনে বার বার কল দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার সহযোগী তোফাজ্জল হোসেনের নাম্বারেও কল দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
শাকিল/সাএ
সর্বশেষ খবর