
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় আকস্মিক ঝড়ে শতাধিক কৃষকের কলার বাগান লন্ডভন্ড ও তছনছ হয়ে গেছে। কলা চাষিরা জানিয়েছেন এতে তাদের প্রায় ৪০ লাখ টাকার অধিক ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) প্রভাতের সময় উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের হাতিলেইট গ্রামের ওপর দিয়ে এ কালবৈশাখি ঝড় বয়ে যায়। ২০ মিনিটের মুহূর্তের ঝড়েই উপজেলার বহু কলা চাষির স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে ফল চাষের জন্য সুপরিচিত হাতিলেইট, বুড়ার বাজার ও সন্তোষপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় শতাধিক কলার বাগান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। যার অধিকাংশই চম্পা কলার বাগান। উপড়ে পড়া সবগুলো গাছেই রয়েছে অপরিপক্ব কলার কাঁদি। ফলনের আগে হঠাৎ ঝড়ে বাগান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কলা চাষিরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বছর ফুলবাড়িয়ায় ৮০ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছে। হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ায় প্রায় ৮ হেক্টর কলা বাগান ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে কৃষকদের তথ্যমতে উপজেলার ১০-১২ হেক্টর কলা খেতের ক্ষতি হয়েছে।
হাতিলেইট গ্রামের কৃষক আলমগির হোসেন জানান, এ বছর কৃষি জমিতে এক হাজারের অধিক চিনি চাম্পা কলা গাছের চারা রোপণ করে তার ৩ লাখ টাকার অধিক খরচ হয়। সম্প্রতি এক বেপারির কাছে প্রতি কাঁদি কলা ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছি। ঝড়ে সব কলা গাছ উপড়ে পড়ায় ব্যাপারী কলা নিবে না বলে জানিয়েছেন। এতে করে আমার অন্তত ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
একই এলাকার কলা চাষি আবুল কালাম মাস্টার প্রতিবেদককে বলেন, গত চৈত্র মাসে কলার চারা রোপণ করার পর থেকেই তিনি খেতে সময় দিচ্ছেন। কলাগুলো বিক্রির উপযুক্ত হওয়ার আগেই কালবৈশাখি ঝড়ে ৭ শতাধিক কলাগাছের সব শেষ হয়ে গেছে।
আ: রাজ্জাক ফকির বলেন প্রতি বছরই ঝড়ে কৃষকের ক্ষতি হয়। কিন্তু গতকাল রাতে মুহূর্তের ঝড়ে এমন ক্ষতি হয়ে যাবে চিন্তাও করতে পারিনি। এই ঝড়ে আমার অপরিপক্ব ৫০০ কলার কাদি পড়ে গেছে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, এবছরের ক্ষতি পুষিয়ে তোলা কষ্ট হয়ে পড়বে। সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাহায্য সহযোগিতা করলে আগামী দিনে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। অন্যথায় তারা মূলধন সংকটে ভুগবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার নূর মোহাম্মদ জানান, হঠাৎ ঝড়ের আঘাতে আমাদের ৭ থেকে ৮ হেক্টর কলা বাগান নষ্ট হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। ক্ষতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর হবে।
শাকিল/সাএ
সর্বশেষ খবর