• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৫
  • শেষ আপডেট ৩ মিনিট পূর্বে
শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯ মার্চ, ২০২৫, ০৮:২০ রাত
bd24live style=

৬১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা 

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৯টি স্থানে ১৭৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিড-টাইড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ৭টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, আনোয়ারা এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া ও সদর এলাকা। গত ২৭ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দরপত্র সংগ্রহের শেষ তারিখ ৩০ মার্চ এবং জমা দেওয়ার সময় ৩১ মার্চ দুপুর ১২টা। দরপত্র খোলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে একইদিন বেলা সাড়ে ১২টায়। দরপত্র সংগ্রহ করা যাবে রাজধানীর মতিঝিলের বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ভবন থেকে।

প্রতিটি প্যাকেজের জন্য নির্ধারিত মূল্য ২৫ হাজার টাকা এবং নিরাপত্তা জামানত প্রতি মেগাওয়াটের জন্য ৫ হাজার মার্কিন ডলার। মোট ১৯টি প্যাকেজের আওতায় প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষমতা ৭০ থেকে ১০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, পাবনা, ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এটি একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র যেখানে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও সংস্থাগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রকল্পটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রাজস্ব বাজেটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে এবং দুই খামের পদ্ধতিতে (টেকনিক্যাল ও ফিন্যান্সিয়াল) আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে জ্বালানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে কক্সবাজারে স্থাপিত ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘খুরুশকুল বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র’। দেশের বৃহত্তম ও প্রথম বাণিজ্যিক এ বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গত ৮ মার্চ থেকে পুরোদমে উৎপাদন শুরু করার পর এখন প্রতিদিন ৬০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। আর এ প্রকল্পের সাফল্যের সূত্র ধরে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

চীনা কোম্পানি এসপিআইসি উইলিং পাওয়ার করপোরেশনের আর্থিক সহায়তায় ইউএস–ডিকে গ্রিন এনার্জি বিডি লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল, চৌফলদণ্ডি ও ভারুয়াখালী–এ চার ইউনিয়নের উপকূল রেখাজুড়ে ২২টি টার্বাইন বা পাখা বসানো হয়েছে। প্রতিটি টার্বাইন থেকে ৩ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

‘খুরুশকুল বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে’র এক কর্মকর্তা বলেন, প্রায় ১১৬.৫১ মিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘খুরুশকুল বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প’টির কাজ ২০২২ সালের ৩১ মার্চ শুরু হয়। একই বছরের ৩১ অক্টোবর প্রকল্পের প্রথম টারবাইন (পাখা) উত্তোলনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এরপর গত বছরের ২৬ মে ১০টি টার্বাইন বসানোর কাজ সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

এরপর গত ৮ মার্চ থেকে পুরোদমে উৎপাদন শুরু করার পর এখন কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন ৬০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। আর এ প্রকল্পের সাফল্যের সূত্র ধরে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পটিকে উত্তর দিকে সম্প্রসারিত করে আরো ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা বাড়িয়ে ২৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে।

তিনি বলেন, কক্সবাজার খুরুশকুল বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশের জন্য একটি গেম চেঞ্জার হিসাবে পরিণত হয়েছে। যেখানে সৌর বিদ্যুৎ প্ল্যান্টের ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গড়ে ৩ একর জমির প্রয়োজন হয়, সেখানে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ৭.৫ একর জমিতে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের সময় ১ হাজার ৫০০’র বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রটি ১ লাখ পরিবারের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাচ্ছে। কেন্দ্র বছরে প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ কিলোওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ৪৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন কয়লা। আর এ থেকে নিঃসরণ হয় প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ মেট্রিক টন কার্বন–ডাই–অক্সাইড।

জানা যায়, এই কেন্দ্রটির কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পের তত্ত্বাবধানকারী সংস্থাটি ১৮ বছরের ব্যবস্থাপনা চুক্তির অধীনে প্রতি ইউনিট ১২ সেন্ট মার্কিন মুদ্রায় সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করছে। এ ধরনের প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সেকেন্ডে কমপক্ষে ৩ মিটার বাতাসের গতিবেগ প্রয়োজন। টারবাইনটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ মিটার বা তার বেশি বাতাসের গতিবেগে পূর্ণ ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

আর কক্সবাজার প্রকল্পস্থলে বাতাসের গড় গতি সেকেন্ডে প্রায় ৫.৫ মিটার, যা শীতকালে কিছুটা কমে যায় বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে যেখানে বাতাসের গতি বেশি, সেখানে নতুন বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে, বায়ুর গুণমান উন্নত করতে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উপর দেশের নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা–ধরা এর জেলা সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তি বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পারে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশে বায়ু শক্তির সম্ভাবনার মূল্যায়ন শীর্ষক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) পরিচালিত এক জরিপে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৩০ হাজার মেগাওয়াটের বায়ু শক্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ইউএসএআইডি অর্থায়নে চালানো এই সমীক্ষায় বলা হয়, বাংলাদেশের ২০ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি ভূমি জুড়ে বাতাসের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৫.৭৫ থেকে ৭.৭৫ মিটারের মধ্যে রয়েছে। যা বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য বায়ু সম্পদের ইঙ্গিত দেয়।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের মহেশখালীতে ১ হাজার ৪১৪ একর জমির উপর ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৬০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ জানায়, কক্সবাজারে পিডিবির অধীনে প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছে, যাদের বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে ৪৫ মেগাওয়াট। এছাড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) অধীনে গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার, যাদের বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে ১৪০ মেগাওয়াট। বর্তমানে কক্সবাজারে কোনো লোডশেডিং নেই বলে জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ।

এ বিষয়ে বিপিডিবির সিনিয়র সেকশন অফিসার (ডেভেলপমেন্ট) আহাম্মদ ভূঁইয়া লিপু বলেন, এটি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এটি বাস্তবায়িত হবে।

মুনতাসির/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯০
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com