
এবার রোজার শুরু থেকেই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। শুধুমাত্র অস্থির ছিল তেলের বাজার। ওই সময় সরবরাহ ঘাটতির কারণে এই অস্থিরতা দেখা দেয়। তবে বর্তমানে তেলের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা দিলেও এবার অস্থির হতে শুরু করেছে চালের বাজার। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে খুচরা বাজারে বিভিন্ন প্রকার চালের দাম কেজিতে ৬ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
চুয়াডাঙ্গার বাজারে কেজিতে বাসমতি চালের দাম ৮ টাকা বাড়তি। আর চিকন চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৬ টাকা। তবে আগের দামেই রয়েছে মোটা ও মাঝারি ধরনের চালে। বৃহস্পতিবার শহরের পাইকারি চালপট্টি ও খুচরা বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।
হঠাৎ করে দফায় দফায় চালের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। সংসারে বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। অসাধু চালকল মালিকদের কারসাজি ঠেকাতে বাজারের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভোক্তারা। তবে চালকলের মালিকেরা ধানের মূল্যবৃদ্ধি ও ধান সংকটকে দায়ী করছেন।
দেখা গেছে, বাজারে সরবরাহ কমেছে মিনিকেট চিকন ও বাসমতি চালের। আগের মজুত করা আমন ধানের চালও শেষের দিকে। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় দিনে দিনে বাড়ছে চালের দাম। বর্তমান বাজারে কেজিতে ৮ টাকা বেড়ে বাসমতি চালের দাম দাঁড়িয়েছে ৯০ টাকা। আর চিকন চালে কেজিতে বেড়েছে ৬ টাকা। যার দাম ৮১ টাকা কেজি। এই দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ।
সরু চালের দাম বাড়ায় বাধ্য হয়ে কম দামের মোটা চাল কিনছেন ভোক্তা সাধারণ। যার দামও কেজিপ্রতি ৫০ টাকা। আর মাঝারি ধরনের চালের কেজি দর ৫৫ টাকা।
বাজারে চাল কিনতে আসা ক্রেতা হাসান আলী বলেন, নিত্যপণ্যের দামের সাথে চালের দামও বাড়ছে। কেজিতে দাম বেড়েছে বাসমতি ও চিকন চালের দামে। রোজার মাসে ভালো মানের চাল কিনে খাওয়ার মতো অবস্থা নেই। এক কেজি চাল কিনতে গেলে ৮০-৯০ টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গার চালের আড়তদার হাবিবুর রহমান বলেন, মোটা ও মাঝারি চালের দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। শুধু মাত্র দাম বেড়েছে মিনিকেট ও বাসমতি চালের। আমন ধান শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই আমদানি কম। দাম বেশি হওয়ার কারণে ক্রেতাদের চাহিদার চাল মিনিকেট ও বাসমতি কেউ কিনছে না। সামনে নতুন ধান উঠলে চালের দাম কমে আসবে। তবে কম দামের চালে ক্রেতাদের চাহিদা বাড়াছে মোটা ও মাঝারি চালের দামে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজার পরিদর্শক সহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে চালের সংকট নেই। কিন্তু বাজারে দাম বাড়তে শুরু করেছে মিনিকেট ও বাসমতি চালে। খুব তাড়াতাড়ি চালের বাজার স্বাভাবিক হবে। চালের কৃত্রিম সংকট যাতে কেউ কাজে না লাগায় সেজন্য বাজার মনিটরিং চলমান আছে। আর কয়দিন পর বোরো মৌসুমের চাল বাজারে আসলে দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর