
চট্টগ্রাম নগরের দুই নম্বর গেট মোড়ে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে দিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের ফলে নগরের মুরাদপুর-বহদ্দারহাট ও জিইসি মুখী সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কর্মজীবী ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। রোজাদারদের অনেককে হাঁটতে দেখা গেছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে তারা সড়ক অবরোধ করেন। পরে দুইটার দিকে সড়ক ছেড়ে বিপ্লব উদ্যানে এসে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, ক্রাফট কন্ট্রাক্টররা কারিগরি ব্যাকগ্রাউন্ডের না, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ল্যাবের সহকারী কর্মচারী। তারা মূলত অষ্টম শ্রেণি কিংবা এসএসসি পাস। তাদের ডিপ্লোমার শিক্ষক হওয়ার কোনো যোগ্যতা নেই। তারা যদি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক হন, তাহলে ডিপ্লোমা ছাত্ররা কতটুকু শিখবে। জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টদের জন্য। জেলা প্রশাসকের কাছে এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে অধ্যক্ষের মাধ্যমে তারা দরখাস্ত দেবেন বলে জানিয়েছেন।
তারা ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো-জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকতে হবে, ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরসহ সকল পদে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল নিয়োগ দিতে হবে, পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ছাত্রদের জন্য সকল বিভাগীয় শহরে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অতি শিগগিরই স্থাপন করতে হবে, কারিগরি শিক্ষা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর চাকরির আবেদন বাস্তবায়ন করতে হবে, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য প্রাইভেট সেক্টরে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল নির্ধারণ করে দিতে হবে এবং জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের ৩০ শতাংশ কোটা অনতিবিলম্বে বিলুপ্ত করতে হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ২টার দিকে দুই নম্বর গেট এলাকায় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ সংযোগ সড়ক, দুই নম্বর গেট হয়ে অক্সিজেন, জিইসি ও মুরাদপুর সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। এসময় অনেককেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতো দেখা গেছে। আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি পুলিশও অবস্থান করছে ওই এলাকায়।
দুই নম্বর গেট রেলক্রসিং এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি অবরোধ করে রেখেছেন অবরোধকারী। ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে উঠে দাঁড়িয়ে আছেন ২০-৩০ জন আন্দোলনকারী। তারা একটি ব্যানার টানিয়ে দিয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ট্রেনটি অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস বেলা ১২টা থেকে আটকে ছিল। যার কারণে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুরোধ করেছেন, এরপরও তারা ট্রেন ছাড়তে দেয়নি। দুপুর ২টার পর ট্রেন ও যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর হল একটি সরকারি পদ। যেখানে মূলত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শিক্ষাদান করেন।
সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি রায়ের মাধ্যমে ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরদের ৩০ শতাংশ পদোন্নতি দিয়ে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর করা হচ্ছে। যেখানে তারা ১০ম গ্রেডে চাকরি পাবেন। কিন্তু এতে ৮ম শ্রেণি, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি পাস ব্যক্তিরাও এই সুযোগ পাচ্ছেন বলে দাবি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর