
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পৌর শহরসহ ২১টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার টিউবওয়েলে (গভীর নলকূপ) পানি উঠছে না। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে টিউবওয়েলগুলো (নলকূপ) অকেজো হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে পুকুর, খাল ও ডোবা থেকে পানি সংগ্রহ করছেন বাসিন্দারা। সুপেয় পানির সংকটের ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। আবার কিছু টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করা গেলেও তা এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে গিয়ে আনতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘বেশি সংখ্যক টিউবওয়েল স্থাপন, তীব্র দাবদাহে অধিকাংশ পুকুর ও খালে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে অকেজো হয়ে পড়েছে টিউবওয়েলগুলো। ফলে সুপেয় পানির সংকট বেড়েছে। এছাড়াও কৃষকরা বর্তমানে সাবমার্সিবল পাম্প ব্যবহার করছে তাদের কৃষি কাজে। ফলে টিউবওয়েলে পানি না উঠার কারণ হতে পারে এসব পাম্প ব্যবহার করার কারণে’।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘চরফ্যাশন পৌরসভাসহ ২১টি ইউনিয়নে সরকারিভাবে ১০ হাজার ৭৩টি হস্তচালিত নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৮৫১টি সচল ও ২২২টি অকেজো রয়েছে। অদ্য পর্যন্ত ২৮টি মেরামত করা হয়েছে’। ১০ হাজার ৭৩টি হলেও সরেজমিনে এর পরিমাণ প্রায় চারগুণ। এ উপজেলার ৬০ শতাংশ বাসিন্দা নিজস্ব অর্থায়নে গভীর নলকূপ স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ বাসিন্দার নলকূপ অকেজো রয়েছে।
জাহানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর ইসলাম হাওলাদার জানান, ‘দীর্ঘ ৩০ বছর টিউবওয়েল থেকে পানি ব্যবহার করে আসছেন। প্রায় ৩ মাস আগ থেকে টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। পুরো এলাকাতে মাত্র কয়েকটি টিউবওয়েল থেকে এখনো পানি উঠছে। অচিরেই এলাকার সকল টিউবওয়েল থেকে পানি উঠা বন্ধ হয়ে যেতে পারে’।
তিনি আরো জানান, ‘বেশি সংখ্যক টিউবওয়েল স্থাপন করার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়েছে। আমরা বর্তমানে বেশিরভাগ কাজের ক্ষেত্রে পুকুরের পানি ব্যবহার করছি। তবে যেকোনো সময় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে’।
একই এলাকার বাসিন্দা জয়নব বিবি জানান, ‘প্রায় ২/৩ মাস হয়েছে তাদের টিউবওয়েলে পানি উঠছেনা। রমজান মাস চলছে এই সময়ে অনেক পানির প্রয়োজন। এলাকায় ঘনবসতি ও প্রতিটি বাড়িতে অসংখ্য নলকূপ থাকার কারণে পানির স্তর নিচে নেমেছে। বর্তমানে পুকুরের পানি ব্যবহার করছি। এলাকায় এখনো কয়েকটি টিউবওয়েল সচল রয়েছে। অনেক দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছি’।
পৌরসভা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাইনুল ইসলাম সোহেল বলেন, 'ভূগর্ভে পানির স্তর কমে যাওয়ায় গভীর নলকূপেও পানি উঠছে না। পরিবারের দৈনন্দিন রান্না, গোসলসহ অন্যান্য প্রয়োজনে পরিমাণ মতো পানি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।'
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এর চরফ্যাশন উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন মুঠোফোন বলেন, 'ভূগর্ভস্থ থেকে পানি উত্তোলনের জন্য সাবমার্সিবল পাম্পের অনুমোদন দেয়া হয়নি। মূলত খাল থেকে পানি তুলে কৃষি জমিতে দেওয়ার জন্য বিএডিসির ৮২টি সেচ পাম্প রয়েছে। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানায় ১ হাজার ৭১৮টি সেচ পাম্প দিয়ে খাল থেকে পানি তুলে কৃষি জমিতে দেওয়া হচ্ছে। যে-সব কৃষি জমির পাশে খাল নেই কিংবা খালে পানি নেই, সেখানকার কৃষকরা অবৈধভাবে সাবমার্সিবল পাম্প ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ থেকে কৃষি জমিতে সেচ দিতে পারে। তবে ওইসব অবৈধ সাবমার্সিবলের সংখ্যা জানা নাই।'
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ বলেন, 'গত বছরের চেয়ে এ বছর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে এমন সংকট দেখা দেয়। তবে বর্ষাকালে এ সমস্যা থাকে না। বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের কাছে তথ্য আসছে যে, হস্তচালিত নলকূপ থেকে পানি তুলতে পারছে না বাসিন্দারা।
শাকিল/সাএ
সর্বশেষ খবর