
পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের তেইশের ছিলার শাপলার বিল এলাকায় লাগা নতুন আগুন থেমে থেমে জ্বলছে। সুন্দরবনে লাগা আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের দশটি ইউনিট যোগ দিয়েছে। তারা দ্বিতীয় দিনের মতো আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পানির উৎস দূরে হওয়ায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও বনবিভাগকে। জোয়ার ভাটার ওপর নির্ভর করে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। নতুন এলাকায় যাতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ফায়ার লাইন কেটে দেয় বনবিভাগ ও গ্রামবাসী।
আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বনবিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই আগুন কত এলাকায় ছড়িয়েছে তা জানাতে পারেনি বনবিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (এডি) আবু বক্কর জানান।
এদিকে, চাঁদপাই রেঞ্জের তেইশের ছিলার শাপলারবিল এলাকায় আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরুপণে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দিপন চন্দ্র দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বনবিভাগ। এই নিয়ে বনের আগুনের ঘটনা তদন্তে দু’টি কমিটি করল বনবিভাগ।
রোববার রাত নয়টায় ফায়ার সার্ভিসের খুলনা ও বাগেরহাটের দশটি ইউনিট নদী থেকে জোয়ারের পানি তুলে তা দিয়ে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। নদীতে জোয়ার থাকা পর্যন্ত তারা পানি ছিটানোর কাজ করে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বনবিভাগের নিজস্ব সেচ পাম্প দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বনকর্মীরা। এর আগে সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের দশটি ইউনিট আগুনের স্থানে তাদের সরঞ্জাম নিয়ে পৌঁছে।
রোববার (২৩ মার্চ) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে চাঁদপাই রেঞ্জের তেইশের ছিলার শাপলার বিল এলাকায় আগুন দেখতে পায় বনবিভাগ।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (এডি) আবু বক্কর জামান জানান, রোববার রাত নয়টায় মরা ভোলা নদীতে পাম্প মেশিন বসানোর কাজ শেষ করে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করা হয়। এই আগুন নেভাতে খুলনা ও বাগেরহাটের দশটি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। পানির উৎস দূরে থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরে নদীতে জোয়ার ভাটার একটা ব্যাপার রয়েছে। জোয়ার ভাটা মাথায় রেখে আমরা কাজ করতে হচ্ছে। আগুন যাতে বিস্তৃত হতে না পারে সেজন্য আগুনের স্থানের চারপাশে ফায়ার লাইন কেটে দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। গভীর রাত পর্যন্ত পানি ছিটানোর কাজ চলে। সোমবার সকালে জোয়ার শুরু হয়েছে। এখন আবার পানি ছিটানোর কাজ চলছে। আমরা সেখানেই আগুনে কুণ্ডলি ও ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছি সেখানেই পানি ছিটাচ্ছি। আমাদের পাশাপাশি বনবিভাগও তাদের নিজস্ব পাম্প দিয়ে পানি ছিটাচ্ছে। আগুন যাতে বাড়তে না পারে সেজন্য প্রাণপণ চেষ্টা চলছে।
বন অধিদফতরের খুলনা বিভাগের বনসংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ জানান, তেইশের ছিলার শাপলারবিল এলাকায় লাগা আগুন থেমে থেমে জ্বলছে। রোববার রাত থেকে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে বনবিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস। গভীর রাত পর্যন্ত পানি ছিটানোর কাজ চলেছে। পানির সংকট থাকায় বনের আগুন নেভানোর কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। জোয়ারের পানির ওপর নির্ভর করে এখানে আগুন নেভানোর কাজ করতে হচ্ছে। নদীর জোয়ারের পানি যতক্ষণ পাচ্ছে ততক্ষণ তারা পানি ছিটাচ্ছে।
তেইশের ছিলার শাপলার বিল এলাকার আগুনের তীব্রতা বেশি। বনের আগুন কখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে তা এখন বলা যাচ্ছে না। তবে নতুন এলাকায় যাতে আগুন না ছড়ায় সেজন্য প্রথমে ফায়ার লাইন কাটার কাজ আগেই করা হয়। আগুন এখন নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রয়েছে। বনে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরুপণে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দিপন চন্দ্র দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
শাকিল/সাএ
সর্বশেষ খবর