
দেশের জনপ্রিয় ইলমে হাদিস বিষয়ক ইসলামিক মেগা রিয়েলিটি শো ‘হাদ্দাসানা-২' প্রতিযোগিতায় ২য় স্থান অধিকার করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পুরষ্কার হিসেবে পেয়েছেন নগদ দুই লক্ষ টাকা, ক্রেস্ট, বই ও সুগন্ধিসহ নানা উপহার সামগ্রী।
গতকাল সোমবার স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলায় এই পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। ওয়াবিহি ক্বলা হাদ্দাসানা নামের প্রতিষ্ঠান এই রিয়ালিটি শো'র আয়োজন করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ওয়াবিহি ক্বলা হাদ্দাসানার চেয়ারম্যান শাহ মোঃ ওয়ালি উল্লাহ, ভাইস চেয়ারম্যান মুহাদ্দিস মাহমুদুল হাসান, তানজিমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. মাও.আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাত্তার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম.এ. সাত্তার খান। এছাড়া বিচারক ছিলেন শায়খুল হাদীস আল্লামা শফিকুল্লাহ আল-মাদানী। উপস্থানপক ছিলেন মুফতি হেদায়েতুল্লাহ।
২য় স্থান অর্জনকারী মাহমুদুল হাসান যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানার কৃষ্ণনগরের মাও. আব্দুর রউফ ও মরিয়াম খাতুন দম্পতির সন্তান। তিনি জাফরিয়া জীবন্ত কোরআন বহুমুখী আদর্শ মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করেন।
হাদ্দাসানা প্রতিযোগিতায় ২য় স্থান অধিকার করে অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তা'লার অসীম কৃপায় আমি প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছি। এটি শুধুমাত্র আমার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার ফল নয়, বরং আমার পিতা-মাতা সহ প্রিয়জনদের দোয়া, শিক্ষকদের পরামর্শ ও সর্বোপরি মহান আল্লাহর অনুগ্রহের ফল।
আল্লাহ তা'য়ালা প্রদত্ত এই সাফল্য যেন আমাকে বিনয়ী করে তোলে এবং ভবিষ্যতে আরো পরিশ্রমী হওয়ার প্রেরণা জোগায়। আল্লাহ যেন আমাকে আরো উত্তম পথে পরিচালিত করেন।
সফলতার পেছনের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে মাহমুদুল বলেন, মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ অনুগ্রহই ছিল আমার মূল পাথেয়। আমার বড় ভাই, বন্ধু ও সহপাঠীরা প্রতিযোগিতা সম্পর্কে ধারণা দিয়ে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ করে আসার বন্ধু নোমান আমাকে টিভি রাউন্ডের মতো করেই হাদীস ও প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করত যা প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমার জন্য অনেক সহায়ক হয়েছে।
এছাড়া আরেক সহপাঠী আব্দুল করিম অনলাইন বাছাই থেকে শুরু করে চুড়ান্ত বাছাইপর্ব পর্যন্ত সম্পূর্ণ সময়ই আমাকে তা তত্ত্বাবধানে রেখেছেন। যখনই হাল ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে তার দেওয়া উৎসাহেই আল্লাহর রহমতে নতুন উদ্যমে আবারও নতুনভাবে শুরু করতে পেরেছিলাম।
প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, প্রস্তুতি খুব ভালো ছিল না। সিলেবাস যদিও নির্দিষ্ট কিন্তু গভীরতা অনেক বেশি। যার দরুন প্রস্তুতি নিয়ে অনেক চিন্তিত ছিলাম।
পাশাপাশি টিভি প্রোগ্রাম হওয়ার কারণে বেশকিছুটা নার্ভাসনেসও কাজ করছে। তবে আল্লাহ তাআলার অশেষ অনুগ্রহে এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ।
মুনতাসির/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর