
নড়াইলের বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় গত তিন মাসে সড়কে ৬জন নিহত হয়েছেন। নিহতের তালিকায় ৫ যুবক ও ১ শিশু রয়েছে। এরমধ্যে ফেব্রয়ারি মাসে তিন জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক,আন্তঃজেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে এসব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।
বছরের প্রথম সড়ক দুর্ঘটনা ১০ জানুয়ারি দিবাগত রাত ৩ টার দিকে সদর উপজেলার কালনা-নড়াইল-যশোর মহাসড়কের তুলরামপুর ব্রিজ এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় তামিম মোল্যা (২২) হয়। তামিম সদর উপজেলার তুলরামপুর ইউনিয়নের চাচড়া গ্রামের দাউদ মোল্যার ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকুরি করতেন। ঢাকায় কাজ শেষে ছুটি কাটাতে নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজ গ্রামে আসছিলেন। প্রতিমধ্যে কালনা-নড়াইল-যশোর মহাসড়কের তুলরামপুর ব্রিজে পৌছালে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের রেলিং এর সাথে ধাক্কা লেগে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
২৬ জানুয়ারি বিকেলে কালিয়া-নড়াইল সড়কের আমতলা এলাকার ফুলদাহ মোড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে হাসিব মোল্যা নামের এক মোটরসাইকেল চালক যুবক নিহত হয়। নিহত হাসিব কালিয়া উপজেলার মাধবপাশা গ্রামের সাব্বির মোল্যার ছেলে। হাসিব মোটরসাইকেল যোগে কালিয়া থেকে নড়াইলের দিকে যাওয়ার সময় কালিয়া-নড়াইল সড়কের আমতলা এলাকার ফুলদাহ মোড়ে পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় মোটরসাইকেল চালক হাসিব মোল্যা ছিটকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এসময় ট্রাকের চালক ও তার সহকারী ট্রাক রেখে পালিয়ে যায়।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ও বিকেলে নড়াইল সদর উপজেলার সার্কেলডাঙ্গা ও ফুলশ্বরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিন জন নিহত হয়। নিহতরা হলেন- নড়াইল সদর উপজেলার তুলরামপুর গ্রামের সেন্টু হাওলাদার (২৫), চালিতাতলা গ্রামের সাব্বির (১৯), সার্কেলডাঙ্গা গ্রামের ফারুক মোল্যার ছয় বছরের মেয়ে আছিয়া খানম। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের সার্কেলডাঙ্গা এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আছিয়া খানম নামে ছয় বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আছিয়া খানম স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। গুরুতর আহত আছিয়াকে মোটরসাইকেল চালক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার নড়াইল-কালিয়া সড়কের ভবানীপুর ফুলশ্বর এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে তুলরামপুর গ্রামের সেন্টু হাওলাদার নামে একজন মারা যান। অপর মোটরসাইকেলে থাকা আহত চালিতাতলা গ্রামের সাব্বিরকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে সে মারা যায়। এঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দু’জন আহত হয়েছেন।
৬ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে কালিয়া উপজেলায় নড়াগাতি থানার যোগানিয়া তুষারের মোড় এলাকায় মোটরসাইকেল সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক আলামিন শেখ নিহত হন। আলামিন শেখের স্বপ্ন ছিল বিদেশ গিয়ে ভাগ্য পরিবর্তন করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। নিহত আলামিন শেখ দক্ষিণ যোগানিয়া গ্রামের মসলে উদ্দিন এর ছেলে।
নিহত আলামিনের শুক্রবার (৭ মার্চ) বেলা তিন টায় সৌদি আরব যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। ফ্লাইট থাকায় বৃহস্পতিবার রাতে দুলু শেখ ও নয়ন শেখকে সাথে নিয়ে চুল-দাড়ি কাটার জন্য উপজেলার নড়াগতি থানার যোগানিয়া বাজারে যান। পরে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে যোগানিয়া তুষারের মোড় এলাকায় পৌছালে একজন মহিলা রাস্তা পার হতে গিয়ে মোটরসাইকেলের সামনে চলে আসে। এসময় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি নসিমন এর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পথচারী বিজয়া ল²ী, মোটরসাইকেলে থাকা আলামিন, দুলু ও নয়ন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আলামিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাকিল/সাএ
সর্বশেষ খবর