• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৫
  • শেষ আপডেট ৯ সেকেন্ড পূর্বে
মোঃ ইমরান হোসেন
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২ এপ্রিল, ২০২৫, ০৯:৫৪ রাত
bd24live style=

দুইদিনেও নির্মাণ হয়নি বাঁধ, তলিয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের ভাঙন পয়েন্টে দুই দিনেও বিকল্প রিং বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। 

পরিস্থিতির ভয়াবহতা ঠেকাতে ভাঙন পয়েন্টে দ্রুত বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে একজন ঠিকাদার নিয়োগ করা হলেও তিনি এখনও কাজ শুরু করতে পারেননি।

ফলে খোলপেটুয়া নদীর সাথে তাল মিলিয়ে ভাঙনকবলিত এলাকার ছয়টি গ্রামে নিয়মিত জোয়ার ভাটা হচ্ছে। এতে করে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ওইসব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে সহাস্রাধিক চিংড়ি মাছের ঘের ও বোরো ধানের ক্ষেতসহ ফসলি জমি। ডুবে গেছে গ্রামগুলোর নিম্মাঞ্চলের পুকুর। 

বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি, প্লবিত হয়েছে সম্পূর্ণ ৫টি গ্রাম, এছাড়া আংশিক প্লাবিত হয়েছে আরো ৫টি গ্রাম। তিন গ্রামের মানুষজন বিদ্যুৎবিহীন জীবনযাপন করছে। ফলে ওই এলাকার মানুষের না খাওয়া অবস্থায় নির্ঘুম রাত কাটছে বেড়িবাঁধের উপরে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছের ঘেরে নদীর লবণ পানি প্রবাহের জন্য বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে তলা দিয়ে পাইপ বসানোর কারণে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। কারণ ওয়াবদার নিচ দিয়ে পাইপ বসানোর কারনে বাঁধের নিচের মাটি দুর্বল হয়েছিল। যে কারণে আস্তে অস্তে তলার মাটি ক্ষয়ে যাওয়ায় হঠাৎ করে বেড়িবাঁধ ধসে পড়ে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিছট গ্রামের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণপদ পাল, পাউবো খুলনা অঞ্চলের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ শহিদুল আলম, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন, আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় প্রমুখ।

সরেজমিনে বিছট গ্রামের ভাঙন পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে বেড়িবাঁধের ভাঙন পয়েন্ট দিয়ে প্লাবিত এলাকার পানি নামছে খোলপেটুয়া নদীতে। পানি স্রোতের সাথে ভাঙছে ল্যান্ড সাইডের ভূমি। স্থানীয় উদ্যোগে কয়েকশ মানুষ ভাঙন পয়েন্ট থেকে বেশ কিছু দূরে মাটি ও বালির বস্তা দিয়ে রিং বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করেছেন অনেকেই।

এদিকে আজ সকাল থেকে পুরুষরা বাঁধ সংস্কারে অংশ নেয়, পরে দুপুরের জোয়ার শুরু হলে ভাঙন পয়েন্ট দিয়ে ফের প্রবল বেগে পানি ঢোকা শুরু করে লোকালয়ে। ফলে আরো নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভয়ে বিছট গ্রামের অনেকে গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে। মাটির ঘর ভেঙে পড়া আশংকায় অনেকে মালপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। মঙ্গলকবার দুপুরের জোয়ারে প্লাবিত গ্রাম গুলোর নিম্মাঞ্চলের অনেক বাড়িতে নতুন করে পানি উঠেছে। তলিয়ে গেছে অনেক মিষ্টি পানির পুকুর।

বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু দাউদ জানান, বিছট গ্রামের যে স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙেছে, ওই স্থানটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এছাড়া মূল যে পয়েন্টটি ভেঙেছে সেখানে একটি পাইপ লাইন ও গেট সিস্টেম ছিল। মাছের ঘেরে পানি তোলার জন্য পাউবো’র বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে পাইপ বসিয়ে পানি তোলার কারণে হঠাৎ বাঁধটি ধসে যায়।

তিনি আরো বলেন, সোমবার ঈদের নামাজের বেলা পৌনে ৯টার দিকে গ্রামবাসী জানতে পারেন, হঠাৎ বাঁধটি ধসে পড়েছে। আমরা গ্রামের কয়েকশ লোক দ্রত ভাঙন পয়েন্টে পৌছে বাঁধটি সংস্কারের চেষ্টা করি। কিন্তু দুপুরের জোয়ারের সময় সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ভাঙন পয়েন্ট দিয়ে দ্রুত বেগে পানি ঢুকতে থাকে লোকালয়ে। বিদ্যালয়ের মাঠে খোলপেটুয়া নদীর পানি প্রবেশ করেছে। আবু দাউদ বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে। ১০ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। দ্রুত বাঁধ সংস্থার করা না গেলে তাঁর বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

আনুলিয়া ইউপির চেয়ারম্যান মো. রুহুল কদ্দুস জানান, বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় গতকাল তাঁদের নির্ঘুম রাত কেটেছে। ঈদে তাঁর ইউনিয়নের মানুষ আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি। ইতিমধ্যে বিছট, বল্ল ভপুর, আনুলিয়া, চেঁচুয়া, কাকবাসিয়া গ্রামের নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সম্পূর্ন প্লাবিত হয়েছে নয়াখালী গ্রাম। এসব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। সতাধিক মাছের ঘের ভেসে গেছে। বোরো ধানের খেত তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে কাঁচা ঘর। 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, এখানকার ভাঙন খুবই ভয়াবহ। দ্রুত মেরামত করতে না পারলে আরো বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে। বেড়িবাঁধ ভাঙনের কথা জানতে পেরে আমি সাথে সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত তা মেরামতের নির্দেশ দেই। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দু’টি বিভাগকে সমন্বয় করে একসাথে কাজ করতে বলেছি। আপাতত জিও ব্যাগ দিয়ে প্রটেকশন দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা দ্রুত বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছি। এসব বাঁধ তদরকির ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় মৎস্যচাষিরা ইচ্ছেমতো বাঁধ কেটে পাইপ ঢুকিয়ে পানি তুলেছেন। এ কারণে দুর্বল বাঁধ আরও দুর্বল হয়ে ধসে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ শহিদুল আলম বলেন, এখানে বাঁধের অবস্থা আগে থেকেই ঝুকিপূর্ণ ছিল। এছাড়া এখানে মাটির গুনগত মান খুব খরাপ হওয়ায় তা ভেঙে গেছে। দ্রুত ভাঙন মেরামতের জন্য যশোরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রাউন ফিল্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার কাজ শুরু জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনী সামগ্রী ভাঙন পয়েন্টে নিয়ে এসেছেন। আশা করছি আগামীকাল কাজ শুরু করা যাবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ঈদুল ফিতরের দিন (৩১ মার্চ) সকাল পৌনে ৯ টার দিকে  বিছট গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে আব্দুর রহিম সরদারের ঘেরের বাসার পাশ থেকে প্রায় দেড়'শ ফুট এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ হঠাৎ করে খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। 

নদীর পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়ে আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট, বল্লভপুর, আনুলিয়া, নয়াখালী চেঁচুয়া ও কাকবসিয়া গ্রাম। এর মধ্যে নয়াখালী গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বাকি গুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

মুনতাসির/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯০
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com