
রাজবাড়ীর পাংশায় বিএনপির অফিস ভাঙচুর ও মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নে দক্ষিণ খোর্দ্দবসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ৭ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত একজন ঢাকা, একজন ফরিদপুর ও ৫ জন পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও স্থানীয় ভাবে ৩ জন চিকিৎসা নিয়ছে।
আহতরা হলেন- কলিমহর ইউনিয়নের তত্তিপুর গ্রামের নুরু ভূঁইয়ার ছেলে আকবর ভূঁইয়া (৪০), বাগ বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত ওমেদ আলী প্রামানিকের ছেলে মোহন প্রামানিক (৫৫), ফলিমারা গ্রামের আলতাফ শেখের ছেলে জহুরুল শেখ (২৩), একই গ্রামের মো. আরব আলী সরদারের ছেলে মো. খাজা সরদার (৩১), গোপালপুর গ্রামের মনিরুল খানের ছেলে তিয়াস (১৮), খোর্দ্দবসা গ্রামের ছুটি মন্ডলের ছেলে জয়নাল মন্ডল (৬৫) ও হোসেনডাঙ্গা গ্রামের সমশের সেখের ছেলে রিপন সেখ (২৭), হোসেনডাঙ্গা গ্রামের অরবিন্দু মন্ডলের ছেলে অমিত মন্ডল (২০), গোপালপুর গ্রামের মজিবরের ছেলে শিমুল (২৫)।
আহতদের মধ্যে আকবর আলী ঢাকা, মোহন প্রামানিক ও অমিত মন্ডল ফরিদপুর ও অন্যান্যরা পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, কলিমহর ইউনিয়নের বিএনপির মধ্যে দুইটি গ্রুপ রয়েছে। যার একটি গ্রুপ পরিচালনা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন সাদের পরিচালনা করেন সাবেক চেয়ারম্যান এ্যাড আক্কাস আলী অপর একটি গ্রুপ পরিচালনা করেন কলিমহর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির নেতা বিধান কুমার বিশ্বাস।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টা দিকে ইউনিয়নের দক্ষিণ খোর্দ্দবসা এলাকায় ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির বিধান বিশ্বাস গ্রুপের অফিস ভাঙচুর ও মারপিট করার ঘটনা ঘটে। অফিস ভাঙচুরের সংবাদ পেয়ে বিধানের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে মর্মে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান আক্কাস আলী বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তার গ্রুপের লোকজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
বিধান কুমার বিশ্বাস বলেন, আহতরা সকলেই আমার কর্মী সমর্থক। ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনা শুনতে পেয়ে তারা দেখতে যায়। এসময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে আমার বিপরীত গ্রুপের নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক ও মুক্তার হোসেনের নেতৃত্বে কালাম মেম্বার, লাল্টু মন্ডল, নাসির, মিন্টু, মিজান, টিটু, নাসিরুদ্দিনসহ ৮০-৯০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
তিনি আরো জানান, অ্যাডভোকেট রাজ্জাক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে কিভাবে নিজে উপস্থিত থেকে এ হামলা পরিচালনা করেন তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি ইতিপূর্বে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না বলেই হয়তো এ কাজ তার দ্বারা সম্ভব হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করছি। এ বিষয়ে আমি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
পাংশা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেনসহ তাদের গ্রুপের লোকজন আমাদের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে। পরে আমরা অফিস দেখতে গেলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের কাছে হাতুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, ফালা, রামদা, বেঁকি, টেটাসহ দেশীয় তৈরি নানারকম অস্ত্র ছিলো।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। ইউনিয়নের দুই গ্রুপের মধ্যে একটি ঝমেলা চলছিলো। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের মনো, বিল্লালসহ বিধানের লোকজন কালাম মেম্বারের দোকান ভাঙচুর করে। এ সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪-৫ জনকে ধরা হয়। পরে আমি তাদেরকে গ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। আমি শুধু হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলাম।
এ ব্যাপারে কলিমহর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ারুল ইসলাম মুরাদ মিয়া বলেন, প্রথমে তারা কলিমহর বাজারে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস ভাঙচুর করতে আসে। সেখানে বাধা দেওয়া হলে ৭ নং ওয়ার্ডের অফিস ভাংচুর করেছে, সেখানে খালেদা জিয়া তারেক রহমান, নাসিরুল হক সাবুসহ নেতাদের ছবি ভাংচুর, চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে উল্লাস করেছে।
এ ব্যাপারে পাংশা মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুনতাসির/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর