
ঈদের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে জসিম উদ্দিন (৪০) নামের এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের উপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ভূমিদস্যু চক্র ও সন্ত্রাসীরা। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে এক নারীও গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঈদের দিন সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লম্বরী পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জসিম বাদী হয়ে রামু থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
আহত জসিম উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের কোনারপাড়া এলাকার মমতাজ আহমদের ছেলে। তিনি ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের চট্টগ্রাম বিভাগে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও আইটি প্রধান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
ভুক্তভোগী জসিমের দাবি, জমি দখলে নিতে না পেরে একই এলাকার ভূমিদস্যু চক্র ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার উপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে।
জসিমের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চাকরির সুবাদে জসিমের পরিবার চট্টগ্রামে বসবাস করার কারণে তাদের গ্রামের ভিটেবাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকার একটি দুষ্কৃতকারী সংঘবদ্ধ চক্র বেআইনিভাবে তাদের বাড়িটি দখল করার অপচেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জসিম ও তার পরিবার কিছুদিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে অবস্থান নেন।
তখন তাদের প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে ভিটেবাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন একই এলাকার হাবিব উল্লাহ ও তার ছেলে রনি, রকি, এবাদুল্লাহসহ একটি সন্ত্রাসী-ভূমিদস্যু চক্র। নিজস্ব ভিটেমাটি রক্ষায় জসিম কক্সবাজার আদালতের ধারস্ত হয়ে ১৪৪ ধারায় একটি মামলা করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে চক্রটির বিরুদ্ধে ওই জায়গায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সশস্ত্র অবস্থায় আরও বেপরোয়াভাবে এলাকায় মহড়া দিয়ে জসিম ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে গ্রামে বসবাস করতে বাধা দেন।
এইসব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ঈদ উদযাপন করতে জসিম ও তার পরিবার চট্টগ্রাম থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। ঈদের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা স্থানীয় কালুর ছেলে হাবিব উল্লাহ, তার ছেলে মোঃ রনি, মোঃ রকি, হাবিবের ভাই এবাদুল্লাহ, তার ছেলে মোঃ সেজান, মৃত জাফর আলমের ছেলে রমজান আলী, তার ছেলে মোঃ কায়সারসহ ১০/১২ জনের একদল সন্ত্রাসী লোহার রড দা-ছুরি ও দেশীয় ভারী অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এসময় সন্ত্রাসীদের দায়ের কোপে জসিম গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে উদ্ধারে সাজেদা আক্তার নামের নারী এগিয়ে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এমতাবস্থায় স্থানীয়রা জসিমকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে বলে, "এইখানে কেউ আগাবি না, আগে জসিম মরুক, তারপর তার লাশ নেওয়া হবে!" এমন হুমকিতে স্থানীয় জনতা ও তার পরিবার জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় জসিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা।
এদিকে এই নৃশংস হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমন কান্তি চৌধুরী বলেন, ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছি। দোষীদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।
মুনতাসির/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর