
বালু খেকোদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। চলছে বালু লুটের মহোৎসব। অন্তত ২০টি পয়েন্ট থেকে বালু লুটের উৎসবে মেতেছে বালু খেকোরা। বুধবার বালু লুটে বাধা দেওয়ায় বালু দস্যুদের হামলায় ৬ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় রাতেই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁড়ালকাঁটা নদীর বাহাগিলি, চাঁদখানা, পুটিমারী ও নিতাই ইউনিয়নের অন্তত ২০টি পয়েন্ট থেকে দিনরাত বালু লুট করছে বালু খেকো সিন্ডিকেট।
জানা গেছে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে দেশের নদী-নালা, খাল-বিল খনন করা হয়। খননকৃত নদীর বালু নদীর দুই তীরে স্তূপ করে রেখে এসব বালু নিলামে বিক্রির জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা লোক দেখানো টেন্ডারের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করে পানির দরে এসব বালুর লট নিলামে নেয়। এসব নিলামের মেয়াদ শেষ হলেও চলছে দিনরাত বালু লুটের মহোৎসব।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের চাঁদখানা সারোভাষা ব্রিজের নিচ থেকে, বাহাগিলি ইউনিয়নের স্টিল ব্রিজের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে, বাহাগিলি ডাংগাপাড়া গ্রামের বিএনপি নেতা আতাউর রহমান আতার বাড়ির পূর্বদিক, বাহাগিলি ময়নাকুড়ি সিনহা কোম্পানির সামনে, বাহাগিলি ঘোপাপাড়া, কালুরঘাট ব্রিজের পূর্বদিক, পাগলাটারী, নিতাই ইউনিয়নের মৌলভীর হাট, মুশরুত পানিয়াল পুকুর, নিতাই মুশরুত বেলতলি, পুটিমারী ইউনিয়নের চৌধুরীর বাজার, কালিকাপুর ময়দানপাড়া, শালটিবাড়ি, খোকার বাজারসহ প্রায় ২০টি পয়েন্টে নদী খননের রক্ষিত বালু দিনরাত বালু খেকো সিন্ডিকেট শত শত মাহিন্দ্র ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাকে করে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, চাঁদখানা সারোভাষা ব্রিজ সংলগ্ন বালু জমে চরে পরিণত হওয়ায় ওই স্থান থেকে দিনরাত বালু লুট হচ্ছে।
পুটিমারী ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের এলাকাবাসী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নামমাত্র মূল্যে ৮ নম্বর লটটি নিলামে নেওয়া হয়। বালু উত্তোলন ও পরিবহনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গ্রামবাসী ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল। বর্তমানে বালু সিন্ডিকেট ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই বালুগুলো পরিবহন করছে।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক কৃষক জানান, বাহাগিলি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা জুগল চন্দ্র গোপনে নদীর চরসহ ওই স্তূপকৃত বালু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দফায় দফায় জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এদিকে, বুধবার বিকালে বাহাগিলি মাছুয়া পাড়ায় স্তূপকৃত বালুর লট হতে বালু লুটের সময় এলাকাবাসী বালু বোঝাই ট্রাক্টর আটক করলে বালু লুটেরারা ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে এবং বলে, "আইনি বিষয় আমরা দেখবো।" এলাকাবাসী এরপরও ট্রাক্টর ছেড়ে না দিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করলে বালু লুটেরা সংঘবদ্ধ হয়ে এলাকাবাসীর উপর হামলা চালিয়ে গাড়ি ছিনিয়ে নেয়। এতে ৬ জন আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।
হামলায় আহতরা হলেন—তাজুল ইসলামের পুত্র মানিকুল (২১), হালিমের পুত্র মেহেদী হাসান (২০), আবু সুফিয়ানের পুত্র সোয়াইব রহমান (২১), ওয়াজেদ আলীর পুত্র রাশেদ (২৪), সাইয়াদুলের পুত্র মিজানুর (২৭) ও মিজানুরের পুত্র মাসুম।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, "বালুর লটগুলোর ইতোমধ্যে মেয়াদ শেষ হয়েছে। বুধবার বালু লুটের সময় গাড়ি আটকের ঘটনায় হামলার ঘটনা শুনেছি। এ ঘটনায় আহতরা থানায় অভিযোগও দিয়েছে। বালু চুরি রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অভিযান আরও বৃদ্ধি করতে হবে।"
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর