
চট্টগ্রামে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসের যাত্রীদের মধ্যে দুজন বেঁচে গেছেন। একজন আট বছরের শিশু আরাধ্য বিশ্বাস, অন্যজন ১৮ বছরের তরুণী প্রেমা। কিন্তু তারা জানেন না, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়ে এক ভয়াল দুঃস্বপ্নে আটকে গেছেন তারা। দুজনে হারিয়েছেন মা-বাবাকে।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শিশু আরাধ্যকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আগে থেকেই আইসিইউতে লড়ছেন কলেজছাত্রী তাসনিয়া ইসলাম প্রেমা। এই দুজনসহ আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সবকিছু সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। প্রয়োজনে তাদের বিদেশে চিকিৎসা করানোর আশ্বাস দেন তিনি।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশু আরাধ্যর দুই পা ভেঙে গেছে। বড় ধরনের আঘাত। মাথায়ও আঘাত পেয়েছে। সাত দিন পর পরবর্তী অবস্থা জানা যাবে। এখন পর্যবেক্ষণে আছে। আর প্রেমা এখনও আইসিইউতে। দুর্ঘটনার পর থেকে তার জ্ঞান ফেরেনি। তাদের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বুধবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়ায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন আরাধ্যর বাবা দিলীপ বিশ্বাস ও মা সাধনা বিশ্বাস। একই দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রেমার বাবা ঢাকার মিরপুর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, মা লুৎফুন নাহার, দুই বোন আনিশা আক্তার, লিয়ানা ও স্বজন তানিফা ইয়াসমিন।
ঈদের ছুটিতে নিহত রফিকুল-লুৎফুন দম্পতি, তাদের তিন সন্তান, আত্মীয় ও রফিকুলের এক সহকর্মী ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার দিলীপ বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা পর্যটন শহর কক্সবাজারে ঘুরতে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ও দিলীপ ঢাকায় পোশাক কারখানায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক অনেক পুরনো।
দুর্ঘটনার পর চমেক হাসপাতালে আনা হলে প্রেমাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তবে বৃহস্পতিবার সকালেও তার অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি বলে জানান তার মামি জেসমিন রহমান। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ভাগনির অবস্থা খুবই খারাপ। ঢাকায় যে নিয়ে যাব, সে অবস্থাও নেই। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে এখনও কোনো রেসপন্স করেনি। চিকিৎসকরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তারা দেশে-বিদেশে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
ভাই-ভাবির মৃত্যুর খবর পেয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে ছুটে এসেছেন আরাধ্যর কাকা অসিত কুমার বাড়ই। তিনি বলেন, এমন একটা দুর্ঘটনা ঘটবে কখনও ভাবিনি। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে আরাধ্যকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, আরাধ্যর চিকিৎসা আপাতত চট্টগ্রামে চলবে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রার/সা.এ
সর্বশেষ খবর