
থাইল্যান্ডে চলমান ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জোর দিয়ে বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ‘আন্তঃআঞ্চলিক গোষ্ঠী’ (বিমসটেক) কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত, যা এই অঞ্চলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর প্রধান্যকেই তুলে ধরে। এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ‘বিমসটেকের জন্য একটি সংযোগ কেন্দ্রে’ পরিণত হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্যকে ‘ল্যান্ডলকড’ বা ভূবেষ্টিত আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ভারতের এই রাজ্যগুলোর সমুদ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশ।
মোদি এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করেন, যার ঠিক এক দিন পর আজ শুক্রবার সম্ভবত ব্যাংককে তাঁর ও ড. ইউনূসের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এদিকে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েটংটার্ন সিনাওয়াত্রার আয়োজিত নৈশভোজে মোদি ও ইউনূস প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন।
নৈশভোজে নরেন্দ্র মোদি ড. ইউনূস ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির মাঝে বসেছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভারতীয় সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা অনুরোধ করায় বৈঠকটি ‘আলোচনার পর্যায়ে’ রয়েছে। ঢাকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এ দুই নেতা আজ শুক্রবার বিকেলে শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই বৈঠক করবেন। বৈঠকটি যদি হয়, তবে ২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ দুই নেতার মধ্যে এটি প্রথম সাক্ষাৎ হবে।
অপরদিকে, বিমসটেকের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিমসটেকের জন্য একটি সংযোগ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এবং ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপক্ষীয় মহাসড়কের সমাপ্তি এই অঞ্চলকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত সংযুক্ত করবে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি সত্যিকারের গেম-চেঞ্জার হবে।’
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় গত বুধবার স্পষ্ট করে জানায় যে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য ‘সৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে করা হয়েছিল, তবে তা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি যখন বেইজিংকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চীনে কথা বলছিলেন, তখন ভারত তা নিয়ে ভ্রু কুঁচকেছিল।
মোদি গত সপ্তাহে বাংলাদেশ জাতীয় দিবসে ইউনূসকে চিঠি লিখে অভিনন্দন জানান এবং একে অপরের স্বার্থ ও উদ্বেগের প্রতি পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার তাৎপর্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ সরকারের সূত্র অনুযায়ী, ভারত বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দেশে ক্রমবর্ধমান উগ্রবাদের মধ্যে সংখ্যালঘুদের হুমকির বিষয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছে।
সরকারি সূত্র অনুসারে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং মিয়ানমার জান্তার প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গেও মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। বিদায়ী ভাষণে মোদি বলেন, বিমসটেক বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের আঞ্চলিক উন্নয়ন, সংযোগ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মোদি বলেন, ‘আমি বিমসটেক দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে দেখা করার এবং আমাদের জনগণের স্বার্থে আমাদের সহযোগিতা আরও জোরদারের জন্য ফলপ্রসূ আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছি।’
এর আগে, ২০২২ সালে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে নেতারা বিমসটেক সনদ গ্রহণ করেন। এই সনদ এটিকে একটি গোষ্ঠী থেকে একটি আঞ্চলিক সংস্থায় রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। সার্ক এখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে, ভারতীয় সরকার আঞ্চলিক বাণিজ্য, সংযোগ ও নিরাপত্তার বিকল্প হিসেবে বিমসটেককে উৎসাহিত করছে। কলম্বো শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় মোদি পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)-এর জন্য চলমান আলোচনা দ্রুত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
রার/সা.এ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর