মফস্বলে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অনেক সময় গোয়েন্দাগিরিও করতে হয়: মনোনেশ দাশ

প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২২, ০১:৪৫ পিএম

মনোনেশ দাস একজন চারণ সাংবাদিক। লেটার প্রেস যুগ থেকে সাংবাদিকতা করে আসছেন ময়মনসিংহ অঞ্চলে। কাগজে হাতে লিখে, টেলিগ্রাম, টেলিফোন, ফ্যাক্স, ফিল্মে ছবি মিডিয়া হাউসগুলোতে পাঠিয়ে দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষার পর পত্রিকার পাতায় সংবাদ তুলে ধরেছেন। তখন সংবাদপত্রও ছিল অনেক কম।

সাংবাদিকতা করছেন দৈনিক ইত্তেফাক, ঢাকা টাইমস টুয়েন্টি-ফোর ডটকম, বিডি নিউজ ব্লগ, ইংরেজি কাগজব্লগ, সামহোয়ারইনব্লগ ছাড়াও তার লেখা সংবাদ ও ছবি প্রকাশ পেয়েছে দৈনিক যুগান্তর, ভোরের কাগজ, জাগো নিউজ, সংবাদ ডটনেট ছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকায়।

এক সাক্ষাতকারে চারণ সাংবাদিক মনোনেশ দাস বলেন, ডিজিটালের এই যুগে হার্ড নিউজের বাইরেও অসংখ্য সংবাদ অনলাইন, ফেসবুক, সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। সাধারণত একই ধাঁচের লেখার বাইরে কিছু লিখেন মনোনেশ দাস। বলতে গেলে ভিন্ন স্টাইলে।

পর্যটন, জীবজগৎ, ঐতিহ্য, লোককথার ইতিহাস, সম্প্রদায়, মসজিদ, মন্দির, শিশু নারী, ভিন্ন রঙের মানুষ, প্রত্নতাত্ত্বিক, অন্যায় অবিচার অপরাধ আরও কতো বিষয় নিয়ে লিখেছেন খবর। সত্যকে ছাপার অক্ষরেও অনলাইনে স্থায়ীভাবে প্রকাশ করেন সাহস নিয়ে। তার লেখা বাক্য বঙ্গ সাংবাদিকতার পরিচিত ও প্রাচীন শিক্ষার অংশও উঠে আসে। সাংবাদিকতার সেরা উপহার হিসাবে পেয়েছেন চারণ সাংবাদিক উপাধি।

ময়মনসিংহ তথা দেশ-বিদেশের মফস্বলের সাংবাদিকগণ মনোনেশ দাসের প্রতিস্পর্ধাও দীর্ঘ দিনের। যুগ যুগ ধরে সাংবাদিকরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখে; আর সেই আস্থা থেকেই মনোনেশ দাস সংবাদ প্রকাশ করে গেছেন অনবরত। চমক সংবাদ দিয়ে বিভিন্ন ভুল শুধরানোর উপায় বের করেন। তিনি নিজের সৃষ্ট সংবাদ ভালবাসেন, তা স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। মানুষ, ফুল, ফল, নদীর পানি, মাটি, গাছ, অন্য প্রিয় প্রাণী, কলম, শব্দ, অক্ষও যখন যা চোখে পড়ে তাই সংবাদ হিসাবে উপস্থাপন করেন।

দৈনন্দিন ঘটনা, তথ্য, দুর্ঘটনা, হত্যা, রাজনীতি, সমাজজীবন নিয়ে লিখেন। এনরয়েড মোবাইল স্কিনে তার লিখা পাকের হৃদয়ে, মস্তিষ্কে স্পর্শ করান। তার প্রতিস্পর্ধা জাগে পাঠকের। তার লেখা তথ্য, বিশ্লেষণ করে পাঠকরা পান খবরের ভেতরের খবর। যা দৃষ্টান্ত হয়ে আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছে। তার অনেক সংবাদ উন্নয়ন-ভাবনার অংশ। একজন নিরপেক্ষ সাংবাদিক হিসাবে কাজ করেন তিনি। অনলাইন কিংবা প্রিন্ট মিডিয়ার পক্ষে সর্বাঙ্গসুন্দর নিরপেক্ষ হওয়ার উদাহরণ চারণ সাংবাদিক মনোনেশ দাস তার লেখা।

রাজনীতিতে মেরুকরণের একটা অবাঞ্ছিত প্রবণতা দিন দিন যেখানে প্রকট হচ্ছে সেখানে তিনি লিখছেন একটি প্লেট নিয়ে। শেখ হাসিনা খালেদা জিয়া ছবি সম্বলিত প্লেট রাজনীতির হালচাল তুলে ধরেছেন মানুষের বক্তব্য।

প্রতিকূল শক্তি, ঈর্ষা, লোভ ও ক্ষমতালিপ্সু আমাদের নৈতিকতার পরিপন্থি। অঙ্কুরে বীজ নষ্ট করার সংবাদ বুনেন মনোনেশ দাস। একটি সংবাদ লিখতে গিয়ে কত সময় পার করেছেন তার হিসাব অন্তরালের কাহিনী অনেকেই জানি না। ‘রাইতে বাড়ির বাইরে আইলে বাজান মাইর দিব।’ অনুকরণীয় বড় ভাই আরও কত লিখা আছে যা কত দীর্ঘ সময় লেগেছে সংবাদটি তৈরি করতে তা কেউ জানেন না।

মনোনেশ দাস বলেন, এই সংবাদ তৈরি করতে বছর পেড়িয়ে গেছে। ডিজিটাল রেকডিংয়ের যুগে এখন আর মৌখিক সাক্ষাৎকারভিত্তিক বিবরণও লেখার দিন নেই। যা ছিল তা চোখ বুঝে স্মৃতিতে আনা ছাড়া বিকল্প নেই। এখন ইউটিউবে চোখের সামনে বাস্তব। বৃহত্তর অর্থে সমাজ রাজনীতি সাংবাদিকতা মিলে যে রচিত ইতিহাস পাকের স্বার্থে। মফস্বলের সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, সন্ত্রাসী কর্তৃক নিগৃহীত ও আক্রান্ত হচ্ছেন। অশ্লীল বাক্য, এমনকি অশালীন বাক্য মুখ বুঝে শুনতে বাধ্য হচ্ছেন।

সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হয়ে কাজ করেন। এর প্রধান চালিকা শক্তি সংবাদপত্র অনলাইন পোর্টাল। সরকারি-বেসরকারি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি তথা অপরাধীদের নিয়ে অপ্রিয় সংবাদ ও বিরুদ্ধ সমালোচনা জনসমক্ষে তুলে ধরেন মনোনেশ দাস। তিনি মনে করেন, তার মতো সকল সাংবাদিকদের পেশাই এটা। এটি করতে গিয়ে নিগৃহীত ও আক্রান্ত হতে হচ্ছে।

মনোনেশ দাসের মতো সাংবাদিকরা ঐসব সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ভোঁতা করে দেন সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ করেন তীক্ষ্ণতা বজায় রেখে। বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ করেন অপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিতের জন্য। মনোনেশ দাস বলেন, অনেক সাংবাদিক আছেন যাদের এই ভূমিকাকে অস্বীকার করে তাদের ছোট করা নেহাতই অহমিকাবোধের প্রতিফলন। এমন মানুষও নেহায়েত কম নয়।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: